Election Commission

নির্বাচনের কাজে এসে তৃণমূল নেতার সঙ্গে ইফতার পার্টিতে যোগ, সরানো হল সাত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে

অভিযোগ, সপ্তাহ খানেক আগে স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সামিউল হকের আমন্ত্রণে তাঁরা ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। খাওয়া-দাওয়ার সময় তাঁদের পরনে ছিল বিএসএফ-এর পোশাক। সেই ছবি কিছু দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পৃথক ভাবে সাত জনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০১:৪৪

নির্বাচনের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাত জন জওয়ানকে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজ্য থেকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁরা ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেকারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগ, সপ্তাহ খানেক আগে স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সামিউল হকের আমন্ত্রণে তাঁরা ইফতার পার্টিতে যোগ দেন। খাওয়া-দাওয়ার সময় তাঁদের পরনে ছিল বিএসএফের পোশাক। সেই ছবি কিছু দিনের মধ্যে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। কমিশন সূত্রের খবর, পৃথক ভাবে সাত জনের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দাবি, তাঁরা কোথাও যাননি। বিএসএফ ক্যাম্পেই ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রধান সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। এ দিকে, ছবি ভাইরাল হওয়ার পরই এই বিষয়টি কমিশনের নজরে আসে। ওই সাতজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। বিএসএফ অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। বাকি পাঁচ জনকে ভিন্‌রাজ্যে বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশেই বিএসএফ এই সাত জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে বলে সূত্রের খবর।

এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন বলেছেন, ‘‘২৮ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিএসএফ তদন্ত করে এবং গত ৯ মার্চ ও ১১ই মার্চ ওই জওয়ানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে এই ঘটনা ঘটেছে।’’

উল্লেখ্য, ভোটমুখী পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন বিএসএফ জওয়ানদের খাবার নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিএসএফ সদর দফতর থেকে এই নির্দেশিকা বিএসএফের নোডাল আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ওই নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত বিএসএফ জওয়ানেরা শুধুমাত্র বিএসএফের নিজস্ব কনভয়ে প্রস্তুত খাবার অথবা নির্বাচন কমিশন বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত খাবারের প্যাকেটই গ্রহণ করতে পারবেন। সাধারণ নাগরিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে খাবারের প্যাকেট গ্রহণ করার অনুমতি কোনও জওয়ানেরই নেই। ওই নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে যে, এই নির্দেশাবলি লঙ্ঘনের কোনো ছবি বা প্রতিবেদন যদি নজরে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাশাপাশি, এ বার রাজ্যে ভোট ঘোষণার বেশ কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছোয়। জওয়ানরা কী করছেন, কমিশন সেদিকে কড়া নজর রেখেছে। তাঁদের নজরদারির জন্য জিপিএস ট্র্যাকার, বডি ক্যামেরার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হচ্ছে কিনা অথবা তাঁদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন কিংবা রুটমার্চের সময় কোন কোন জায়গায় যাচ্ছেন তাঁরা, সেসব কমিশন নজরে রেখেছে। সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেই সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অভিযোগে কঠোর নির্বাচন কমিশন।


Share