Assembly Election

‘চেয়ারটা থাকল তো!’ কলকাতা পুলিশকে হুঁশিয়ারি ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর

শনিবার রাতের পথসভায় দুই দলের কর্মীদের বচসার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, মাঝপথে সভা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী
নিজস্ব সংবাদদাতা, ভবানীপুর
  • শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২০

শনিবার কালীঘাট-সহ দুটি থানার ওসিদের বদলি করেছে লালবাজার। ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে জনসভা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই কালীঘাট থানা-সহ কলকাতার আরও দুটি থানার পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিধানসভা নির্বাচনে ‘হাইভোল্টেজ’ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির প্রার্থী রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ভবানীপুরে উভয় দলেরই নির্বাচনী প্রচার ছিল। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির পথসভা চলছিল। সেই সময় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ওই একই এলাকায় তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা চালাচ্ছিলেন। ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বক্তৃতা থামিয়ে পাঁচ সাত মিনিট তিনি অপেক্ষা করেন। তারপরে সভাস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। 

নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে শনিবার সন্ধ্যায় কালীঘাট থানার ওসিকে সরিয়ে দেয় লালবাজার। এক মাসের মধ্যে আবার কালীঘাট থানায় বদল আনা হয়। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ প্রশাসনকে শুভেন্দু অধিকারী কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। তিনি বলেন “পুলিশকে বলব ভদ্র হয়ে যান। একদম ভদ্র হয়ে যান। সময় নেই বেশি। একদম ভদ্র হতে হবে আপনাদের। আপনারা আজকে যা করেছেন তার খেসারত আপনারা পেয়েছেন। আপনাদের লজ্জা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে চেনে, আপনাদের আমাকে চিনতে সময় লাগবে। প্রথম দিন আমি এসেছিলাম। প্রেমজিৎ বিশ্বাস নামে একজন পুলিশ আমাদের কার্যকর্তা অনিল সাহাকে ফোন করেছিল। আমি ওকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম, তার পর থেকে প্রেমজিৎ বিশ্বাসের বাহাদুরি থেমে গিয়েছে।” এর পর‌ই তিনি বলেন, “ওসি কালীঘাট পারমিশন দেননি তো আমাকে? চেয়ারটা থাকল? কী করে ছোটাতে হয়, ভবানীপুরের ওসিকে আমি বলে গেলাম।”

উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়। তবে এক মাসের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন ওসি হিসেবে গৌতম দাস দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি আগে স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন।

এ ছাড়াও, কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওই পদে নিযুক্ত হয়েছেন উত্তম পাইক। পাশাপাশি আলিপুর এবং উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি পদেও নির্বাচন কমিশন রদবদল করেছে। আলিপুর থানার নতুন ওসি হয়েছেন সুব্রত পাণ্ডে। চামেলি মুখোপাধ্যায়কে উল্টোডাঙা মহিলা থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনী আবহে পুলিশ প্রশাসনের এই রদবদল এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভবানীপুরে।


Share