Election Commission

স্কানারে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেলে', দুষ্কৃতীদের রুখতে বড় পদক্ষেপ, পুলিশকে হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের

এই মডেলের মূল লক্ষ্য, ভোটের সময়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং দুষ্কৃতীদের প্রভাবমুক্ত রাখা।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:০৩

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যের নজর এখন ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল। অতীতে একাধিক অভিযোগ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এই কেন্দ্রকে নিয়ে নতুন রণকৌশল নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবারকে সামনে রেখেই রাজ্যের স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলির জন্য এক বিশেষ কড়া বার্তা দিতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের দফতর।

এই মডেলের মূল লক্ষ্য, ভোটের সময়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং এলাকা দুষ্কৃতীদের প্রভাবমুক্ত রাখা। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, কোনও পুলিশ আধিকারিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করলে বা কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করলে শুধু সাসপেনশনেই বিষয় থামবে না, নেওয়া হবে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা। ফলে এই বার্তা শুধু ডায়মন্ড হারবার নয়, রাজ্যের অন্যান্য জেলার পুলিশ প্রশাসনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই কমিশন সেই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচ জন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং এসডিপিও পদমর্যাদার অফিসারও রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁরা নিরপেক্ষতার বদলে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছিলেন এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের গতিবিধির ভিডিয়ো রেকর্ড করছিলেন। তৃণমূলের হয়ে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছিলেন।

শুধু প্রশাসন নয়, কমিশনের নজরে এ বার এলাকার প্রভাবশালী দুষ্কৃতীরাও। দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে কমিশন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রায় এক হাজার জন চিহ্নিত দুষ্কৃতীর তালিকা তৈরি করেছে। অভিযোগ, এদের অনেকেই ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথমুখী হতে বাধা দেয়। কমিশনের পরিকল্পনা, ভোটের আগেই এই তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচনের দিন এলাকায় তাদের প্রভাব সম্পূর্ণ রুখে দেওয়া।

নির্বাচন কমিশনের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এখন দেখার, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশনের এই ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়।


Share