Special Intensive Revision

এসআইআরের ট্রাইবুনালে এসে অসুস্থ হলেন বৃদ্ধ, হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু, প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে তৃণমূলের দুই প্রার্থী

ঘটনার পরেই নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে একই সারিতে রেখে বিক্ষোভ শুরু করে। বৃহস্পতিবার মৃত্যুর ঘটনায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শাসকদল। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী তাপস ঘোষ ও রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী সৌগত বর্মন বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন।

মৃতের নাম জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০২:২৯

ভোটার তালিকায় নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। তার পরে তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ট্রাইবুনালে এসে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। নদিয়ার রানাঘাটে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে তৃণমূল বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ঘটনায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

মৃত বৃদ্ধের নাম জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস (৬৮)। তিনি নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকার গাড়াপোতা এলাকার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রের খবর, বাবা ও বিবাহিত এক মেয়ের নাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন ছিল। তার পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে বাদ পড়ে। বৃহস্পতিবার ভোরে নিয়ম মেনে তিনি ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন‍্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি ট্রাইবুনালে নথিপত্র নিয়ে আসেন। রানাঘাটের মহকুমাশাসকের দফতরে ট্রাইবুনাল করা হয়েছে। সেখানেই কোথাও বসে জীবনকৃষ্ণ নথিপত্র গোছানোর সময় অসুস্থ বোধ করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে পাশেই থাকা রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জীবনকৃষ্ণকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

এর পরেই নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে একই সারিতে রেখে বিক্ষোভ শুরু করে। বৃহস্পতিবার মৃত্যুর ঘটনায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শাসকদল। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী তাপস ঘোষ ও রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী সৌগত বর্মন বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন। ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

ঘটনায় তৃণমূলপ্রার্থী তাপস ঘোষ বলেন, “নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁরাই ট্রাইবুনালে এসেছে। সেখানে এসে জীবনকৃষ্ণের মৃত্যু হয়েছে।” তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, জীবনকৃষ্ণ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অপরিকল্পিত ভাবে এসআইআর করা হয়েছে। চক্রান্ত করে নামগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এমন ঘটনা ঘটেছে।

অন‍্য দিকে বিজেপি ঘটনায় মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এসআইআর-এর বিরোধিতা করেছেন। মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছেন। অহেতুক ভয় দেখিয়েছেন। তাঁর জন‍্যই এরম ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, “মহকুমাশাসকের দফতরে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। সেখানে একটা কাউন্টার করা হয়েছে। চার থেকে পাঁচটি কাউন্টার করাই যেত। ইচ্ছাকৃত ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রশাসন নির্বাচনের মুখে এটা করার চেষ্টা করছে।”


Share