Assembly Election

তৃণমূল বা বিজেপি নয়, নির্দলে মনোনয়ন দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা, ভোটের আগে উত্তরপাড়ায় নতুন সমীকরণ

উত্তরপাড়ার তৃণমূল নেতা কালাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি নেই। গালাগাল দিলেও তৃণমূলকে দিতে হবে প্রশংসা করলেও তৃণমূলেরই করতে হবে।”

নির্দলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তৃণমূল নেতা অচ্ছেলাল যাদব।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শ্রীরামপুর
  • শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৪৯

তৃণমূল বা বিজেপি নয়। সিপিএম তো নয়ই। নির্দলে মনোনয়ন জমা দিলেন প্রাক্তন শাসকদলের দাপুটে তৃণমূল নেতা। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসকের দফতরে এসে অচ্ছেলাল যাদব নির্দলের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। অচ্ছেলালের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলি উত্তরপাড়ার মানুষকে ‘মজদুর’ ভাবে। তারই প্রতিবাদে তিনি নির্দলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

অচ্ছেলাল যাদব উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত কানাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন ছিলেন। তারও আগে অচ্ছেলাল উত্তরপাড়া-শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ছিলেন। তার ভাই, দিলীপ যাদব উত্তরপাড়ার কোতরং পুরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান। তাঁর এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিতি রয়েছে। শ্রীরামপুরের রাজনীতিতে অচ্ছেলাল যাদব কল‍্যাণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের বিরুদ্ধে বলেই পরিচিতি রয়েছে।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে অচ্ছালাল যাদবকে টিকিট দেয়নি দল। অচ্ছেলালের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য তিনি সেই নির্বাচনে জেলা পরিষদের টিকিটে দাঁড়াতে ইচ্ছুক ছিলেন। কিছু দল তাঁকে টিকিট না দিয়ে সাংসদ কল‍্যাণ ঘনিষ্ঠ নিখিল চক্রবর্তীকে টিকিট দিয়েছিল দল। তার পর থেকেই দলের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয়। দল তাঁকে শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া ব্লকের সম্পাদকও করেছিল।

অচ্ছেলালের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে এ-ও জানা যায়, গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি দলের হয়ে কার্যত নিস্প্রভ থেকেছে। তার ওপর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোন্নগরের আদর্শনগরের তাঁর কার্যালয়ে ব‍্যারাকপুরের বিজেপি নেতা তথা নেয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিংহকে আসতে দেখা যায়। তখন থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ছাড়ার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তার পরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু সে পথে হাঁটেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এ দিন সকালে দাপুটে নেতা অচ্ছেলাল যাদব শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসকের দফতরে গেলেন। সেখানে তিনি নির্দলের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন। উত্তরপাড়ার বিধানসভার হয়ে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

বৃহস্পতিবার অচ্ছেলাল বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিটি রাজনৈতিক দল উত্তরপাড়ার মানুষকে মজদুর বানিয়ে রেখেছে। তারই প্রতিবাদে আমি মনোনয়নপত্র দিয়েছি। তাঁদের হয়ে আমি কাজ করতে চাই।” দলত‍্যাগ প্রসঙ্গে অচ্ছেলাল বলেন, “আমিও বিভিন্ন পদে ছিলাম। জেতার জন‍্য লড়াই করব। ওসব এখন অতীত। আমার বিপক্ষে যাঁরা মনোনয়নপত্র দিয়েছেন, তাঁরা আমার বিপক্ষ।”

উত্তরপাড়ার তৃণমূল নেতা কালাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এতে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি নেই। গালাগাল দিলেও তৃণমূলকে দিতে হবে প্রশংসা করলেও তৃণমূলেরই করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২০১১ সালে উত্তরপাড়া বিধায়ক হয়েছিলেন গায়ক অনুপ ঘোষাল।তারপর ২০১৬ বিধায়ক হন প্রবীর ঘোষাল।২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে চলে যান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়ক হন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। কিন্তু এ বারে আর তাঁকে তৃণমূল প্রার্থী করেনি। আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষাণ‍্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। সিপিএমের হয়ে লড়ছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কানাইপুর, নবগ্রাম, হিন্দমোটর, মাখলা, রঘুনাথপুরে যথেষ্ট প্রভাবশালী অচ্ছেলাল যাদব। তিনি নির্বাচনে নির্দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তৃণমূলের ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন‍্য দিকে সিঁদুরে মেঘ দেখছে সিপিএম। তবে তিনি আদৌ কোনও প্রভাব ফেলতে পারবেন কিনা তা বোঝা যাবে ফলাফলের দিনই। তবে উত্তরপাড়া বিধানসভায় যে এ বারে কঠিন লড়াই দেখা যাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


Share