Mamata Banerjee

‘৩২ লক্ষের নাম তুলেছি, বাকিদেরও তুলব’, মিনাখাঁ থেকে ভোটার তালিকা ইস্যুতে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্য রাজ্যে বাঙালিদের বাংলাদেশি বলা হয়, অথচ সেই একই দল বাংলায় এসে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, এখনও বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তার ঘটনা ঘটছে এবং গণতন্ত্রকে বিজেপি বাজারের পণ্যের মতো ব্যবহার করছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, মিনাখাঁ
  • শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:১০

উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থেকে ভোটপ্রচারে নেমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন। তাঁর দাবি, ‘৩২ লক্ষের নাম তুলেছি, বাকিদেরও নাম তুলব’। তিনি জানান, এবারের নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং মানুষের অস্তিত্ব ও বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াই।

বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্য রাজ্যে বাঙালিদের বাংলাদেশি বলা হয়, অথচ সেই একই দল বাংলায় এসে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, এখনও বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তার ঘটনা ঘটছে এবং গণতন্ত্রকে বিজেপি বাজারের পণ্যের মতো ব্যবহার করছে।

ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে আমি ৩২ লক্ষ লোকের নাম তুলেছি। আগামিদিন সকলের নাম তুলব। আমার একটাই দুশ্চিন্তা, তাঁদের নাম ভোটের পরে উঠলে তাঁদের অস্তিত্ব থাকবে, কিন্তু তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।’ তিনি আরোও বলেন, ‘৯০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। কেন ভোট কাটছে জানেন? নেক্সট প্ল্যান এনআরসি। ছ'বছর আগে অসমে করেছিল। ১৯ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়েছিল। এর মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু ছিলেন, ছ'লক্ষ মুসলমান ছিলেন। যে হেতু আমরা এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেবো না, তাই বিজেপি চাইছে যে ভাবেই হোক বাংলা দখল করতে।’

খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলার মানুষের খাবার-পোশাকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই। মাছ চাষ, খাদ্যসংস্কৃতি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে বাংলার পরিচয় জড়িয়ে রয়েছে তাই বিজেপিকে ভোট দিলে সেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই বিপন্ন হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ইলিশ উৎপাদন প্রসঙ্গেও তিনি রাজ্যের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। জানান, আগে বাংলাদেশ নির্ভরতা বেশি থাকলেও ২০১৩ সালে ডায়মন্ড হারবারে গবেষণা কেন্দ্র তৈরির ফলে এখন রাজ্যে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বেড়েছে। ডিম উৎপাদনেও একই পরিবর্তন এসেছে আগে বাইরে থেকে আনতে হলেও এখন বাংলাতেই পর্যাপ্ত জোগান তৈরি হয়েছে।

সভা থেকে ভোটারদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, টাকা দিয়ে মিছিলে লোক আনা হচ্ছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, পরে সেই আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে চাপ তৈরি করা হতে পারে। 


Share