Election Commission

শুভেন্দুর অভিযোগে নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে এফআইআর, নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন

তিনি আরোও বলেন, ‘‘একটা লোক বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত সদস্য। পদত্যাগ না করেই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী! নির্বাচন কমিশনকে আমি প্রশ্ন করতে চাই, কোন আইনে আছে ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক একই সঙ্গে দু’টি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?’’

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৫৯

নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগের পর তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে এই অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার নরেন্দ্র মোদীর হলদিয়া সভার প্রস্তুতি দেখতে এসে শুভেন্দু নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি তোলেন। বিজেপি কার্যালয়ে সংবাদ বৈঠকে তিনি দাবি করেন, ‘‘আমি স্ক্রুটিনির সময় কোনও অবজেকশন দিইনি। আমার অবজেকশন দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আমি নির্বাচনে হারাব। আমি অবজেকশন জানালে ওর (পবিত্র কর) প্রার্থিপদ চলে যায়।’’ তিনি আরোও বলেন, ‘‘একটা লোক বিজেপির প্রতীকে পঞ্চায়েত সদস্য। পদত্যাগ না করেই বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী! নির্বাচন কমিশনকে আমি প্রশ্ন করতে চাই, কোন আইনে আছে ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক একই সঙ্গে দু’টি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?’’

বিতর্কের সূত্র ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন। সে সময় বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতে সদস্য নির্বাচিত হন পবিত্র কর। পরে ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি এবং একই দিনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

শুভেন্দুর অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্যপদ থেকে ইস্তফা না দিয়েই পবিত্র তৃণমূলের প্রতীকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন। সেই অভিযোগ সামনে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে।

এফআইআর প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পবিত্র কর বলেন, ‘‘আমি এই সংক্রান্ত বিষয়ে অবগত নই। তবে আমি যে পদক্ষেপ করব তা আইনমাফিক হবে।’’

উল্লেখ্য, দলবদল করে অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে লড়তে গেলে আগের নির্বাচিত পদ থেকে পদত্যাগ করা বাধ্যতামূলক। এ বার বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুমন কাঞ্জিলাল, হরকালী প্রতিহার, তাপসী মণ্ডল ও তন্ময় ঘোষদেরও সেই নিয়ম মেনেই বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়েছে। 


Share