Polling Personnel Beaten

ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণে মুখ‍্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানোর অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই বেধড়ক মারধর, রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের

মারধরের ঘটনার পরে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে। কমিশন সূত্রের খবর, জেলাশাসক, জেলার পুলিশের সুপার এবং মহকুমাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

আক্রান্ত বোধ কর্মী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট
  • শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৩:৩৪

ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানোর অভিযোগ। আর তা নিয়ে সরব হতেই বেধড়ক মারধর করা হল নির্বাচনের প্রশিক্ষণ নিতে আসা কর্মীকে। এমনকী, বাইরে বেরোলে প্রাণানাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নদিয়ার রানাঘাট ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পরে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর জেরে প্রশিক্ষক বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পরে রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

জখম ভোটকর্মীর নাম সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তিনি পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। জানা গিয়েছে, শুক্রবার এ দিন সকালে রানাঘাট-১ নম্বর ব্লকের স্কুলে বিধানসভা নির্বাচনের জন‍্য ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই প্রজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জগন্নাথ মন্দিরের সরকারি বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। প্রশিক্ষণ নিতে আসা ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়-সহ বাকিরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরেও কেন সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে সরব হন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট-১ নম্বর বিডিও অফিসের কর্মীদের বচসা শুরু হয়। ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁকে বিডিও অফিসের নিজামুদ্দিন দফাদার-সহ কয়েক জন মিলে তাঁকে মারধর করেছে। এমনকী, তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। মারের চেটে তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। 

আক্রান্ত ভোটকর্মী বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছেন কেন? প্রতিবাদ করতেই মারধর করা হয়।” এখন প্রশ্ন, ভোটের জন‍্য প্রশিক্ষণ নিতে আসা কর্মীদের ওপরে যদি এমন হামলা হয় তা হলে তাহলে নির্বাচনের সময় কী হতে পারে? আদৌ কি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে বা ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা কোথায়, এ সব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

বিষয়টি নিয়ে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “একজন ভোটকর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এর পরেও নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, এই সরকারকে গদিতে রেখে সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন করবে, সেটা সম্ভব নয়।” কমিশনকে এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনায় নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী দাবি, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে তৃণমূলের গুন্ডারা সরকার চালাচ্ছে। এই সরকারের আমলে কেউ সুরক্ষিত নয়।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের উচিত ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া। উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হোক।”

মারধরের ঘটনার পরে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে। কমিশন সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি, জেলাশাসক, জেলার পুলিশের সুপার এবং মহকুমাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। থানায় এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে বা জড়িত গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


Share