Chor Bagan Incident

মন্ডপ থেকে ভুল ঘোষণা কারা করেছিল এখনও চিহ্নিত হয়নি, ছিল ৩০টি সিসি ক্যামেরা, ১৩ ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে, জানাল লালবাজার

লালবাজার জানিয়েছে, গোটা পুজো মন্ডপে মোট ৩০টি সিসি ক্যামেরা ছিল। তার মধ্যে ১৩টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাঁরা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে। তাতে মন্ডপের ভিতরের ছবিও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুনাল আগরওয়াল।

চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৯

চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মন্ডপে কারা ভুল ঘোষণা করেছে তা এখনও চিহ্নিত করতে পারল না পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘন্টা কেটে গেলেও গ্রেফতারির সংখ্যা সাত জনেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। লালবাজার জানিয়েছে, পুজো মন্ডপে ৩০টি সিসি ক্যামেরা ছিল। তার মধ্যে ১৩টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কী কারণে সেই মূহূর্তের ঘোষণাকে ‘ভুয়ো’ বলা হচ্ছে বা সত‍্যিই কী তা ভুল ছিল সেই বিষয়টি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে বলে লালবাজার জানিয়েছে।

গত শনিবার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তার পর থেকে পুজো মন্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল সিল করে দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ হোমিসাইড শাখা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, পুজো মন্ডপের ভিতরে যাঁরা ছিল তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে কী ঘটেছিল তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

লালবাজার জানিয়েছে, গোটা পুজো মন্ডপে মোট ৩০টি সিসি ক্যামেরা ছিল। তার মধ্যে ১৩টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাঁরা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছে। তাতে মন্ডপের ভিতরের ছবিও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কুনাল আগরওয়াল। কোন মূহুর্তে ঘোষণার পরেই হুড়োহুড়ি শুরু হয় তা মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মন্ডপের কোনও অংশ ভেঙে যাওয়ার প্রমাণ তদন্তকারীরা পায়নি বলেই জানিয়েছেন লালবাজারের পুলিশকর্তা।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল আরও জানান, মন্ডপ থেকে বাইরে বের হওয়ার রাস্তা বৃষ্টি নামার কারণে আচমকা ভিড় বাড়তে শুরু করে। ফলে বাইরে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ভিতরে প্রবেশের পথ খোলা ছিল। সেই সময় আপৎকালীন এবং ভিআইপি-সহ তিনটি গেট দিয়ে দর্শনার্থীদের বাইরে যেতে দেখা গিয়েছে। যে সময় ঘটনা ঘটেছে সেখানে পুলিশ এবং পুজো ভলান্টিয়ারেরা ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিপর্যয়ের পরে রবিবার সকালে ভবানী ভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি জানান, চোরবাগান ঘটনার পরে রাজ্য কী ব্যবস্থা নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০ এবং ২১ অক্টোবর মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৬ অক্টোবর আড়ম্বরহীন ভাবে বিজয়া সম্মিলনী হবে মিলন মেলায়। সেখানে কলকাতা ও পাঁচটি কমিশনারেটের পুজো উদ্যোক্তাদের ডাকা হবে। থাকবেন চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় জখম ২৫ জনও থাকবেন। তাদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।


Share