CJP Protest

‘আইনের প্রতি তাঁদের কোনও শ্রদ্ধা নেই’, আদালতে ভর্ৎসিত ককরোচরা, বাড়ল দুই নেতার জেল হেফাজতের মেয়াদ

স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম‍্যাজিস্টেট আদালতের বিচারক লিখিত নির্দেশে পুলিশি তদন্ত করে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, সৌরভ এবং আশুতোষরা নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে জমায়েত করেছিলেন। সেই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন‍্য সাধারণ মানুষ কে প্ররোচিত করেছিলেন।

(বাঁ দিক থেকে) আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৬

যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাদ দেওয়ার দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোর করে গেট টপকে সেখানেই প্রবেশের চেষ্টা করলে আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম‍্যাজিস্টেট আদালত। সোমবার তাঁদের জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছে। ককরোচদের ভর্ৎসনা করে আদালতের বক্তব্য, তাঁদের আইনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। তাঁরা আবার আইনভঙ্গ করতে পারেন।

স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম‍্যাজিস্টেট আদালতের বিচারক লিখিত নির্দেশে পুলিশি তদন্ত করে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, সৌরভ এবং আশুতোষরা নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে জমায়েত করেছিলেন। সেই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন‍্য সাধারণ মানুষ কে প্ররোচিত করেছিলেন।

আদালতে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, ককরোচেরা শান্তিভঙ্গ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার জন‍্য বন্ডে সাক্ষর করেছিল। তার পরেও সংবাদমাধ্যমে নিষিদ্ধ হওয়া যন্তর মন্তরকেই বিক্ষোভস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে আন্দোলনের ডাক দেয়। আদালতের বক্তব্য, সমস্ত শর্ত মানবেন, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ককরোচদের নেতারা বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত শর্ত তাঁরা মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর পরেই ককরোচ নেতাদের ভর্ৎসনা করে আদালত জানায়, আশুতোষ এবং সৌরভদের আচরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে তাঁদের আইনের প্রতি কোনও শ্রদ্ধা নেই। তাই তাঁরা আবারও আইনভঙ্গ করতে পারেন। তাই তাঁদের দু’দিনের জেলে থাকার মেয়াদ বাড়ানো হল।

সৌরভ এবং আশুতোষকে নিয়ে আদালতের নির্দেশের পরে আজব দাবি করেছে ককরোচেরা। তাঁদের দাবি, ককরোচ নেতাদের আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ‘আইনি প্রহসন’ বলে তাঁরা মনে করেন। বিষয়টিকে প্রশাসনের ‘অতি সক্রিয়তা’ বলে দাবি করেছে। তাঁদের জামিন মঞ্জুর না হওয়ায় সিজেপির দাবিকে জনগণের দাবি বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা বলেছে, ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।’

আদালতের লিখিত ১৩ অক্টোবর ককরোচের নেতা সৌরভ এবং আশুতোষকে প্রথমে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ককরোচদের তিন নেতার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়াও সৌরভ এবং আশুতোষের বিরুদ্ধে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগ তোলে দিল্লি পুলিশ।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই সিজেপি প্রধান অভিজীৎ দিপকে, সৌরভ এবং আশুতোষকে ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আদালত থেকে এক বছর ‘শান্তি বজায় রাখার’ শর্তে জামিন পেয়েছিলেন সৌরভেরা। তার দু’দিন পর তাঁরা আবার ‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন। গত বার সৌরভ, আশুতোষেরা জামিন পেলেও এ বার তাঁদের জেলে যেতে হয়।


Share