BJP Inner Clash

কোন্নগরের মহিলা বিজেপি নেত্রীকে গালিগালাজ, বৃদ্ধ কর্মীকেও মারধরের অভিযোগ উত্তরপাড়ার বিধায়ক ঘনিষ্ঠ মন্ডল সভাপতির আকাশ রায়ের বিরুদ্ধে

মহিলা বিজেপি নেত্রী শম্পা সিংহ বলেন, “কেন মারধর করা হয়েছে তা জানি না। আমরা বিজেপির কাজকর্ম করি বলে ওদের গায়ে লেগেছে। ওদের কাজ তোলাবাজি করা। সেটা বলতাম বলেই হয়তো আমাদের মারধর করা হয়েছে। আমার ডান হাতে আঘাত লেগেছে। আমরা চারজনই আহত হয়েছি।”

অভিযুক্তের নাম আকাশ রায়।
প্রীতম সাধুখাঁ, কোন্নগর
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৪৬

আবার উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে উঠল। এ বার ঘটনাস্থল কোন্নগড়। ব‍্যক্তি একই— আকাশ রায়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কোন্নগড়ের মন্ডলের সভাপতিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। দলবল নিয়ে তাঁর ওপরে চড়াও হয়েছেন। ঘটনায় কয়েক জন জখম হয়েছেন। তবে কী ঘটনা ঘটেছে তা জানেন না বলেই দাবি করেছেন বিজেপি নেতা প্রনয় রায়।

শনিবার সন্ধায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, কোন্নগর মাদার ডেয়ারীর সামনে স্থানীয় কয়েক জন বিজেপি কর্মী বসেছিলেন। বিজেপি মন্ডল সভাপতি আকাশ রায় দলবল নিয়ে সেখানে আসেন। বিজেপি কোন্নগর মন্ডল সম্পাদক শম্পা সিংহের অভিযোগ, মন্ডল সভাপতি আকাশ রায় ৪০-৫০ জনকে নিয়ে সেখানে আসেন। সকলে মদ‍্যোপ অবস্থায় ছিল। সেখানে এসে তাঁদের প্রথমে গালিগালাজ করেন। বলতে থাকেন, ‘বিধায়কের নামে উল্টোপাল্টা কথা!’ বিজেপির ওই মহিলা নেত্রীর কথায়, তিনি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর নামে কিছু বলেননি। এই নিয়ে বচসা চলতে চলতে আচমকাই মারধর শুরু করে আকাশ রায় ও তাঁর দলবল।

কোন্নগরের ওই মহিলা নেত্রীর আরও অভিযোগ, আকাশ ও তাঁর দলবল মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক পেশায় শিক্ষক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে জুতো, লাথি মারা হয়েছে। এক ৭৫ বছর প্রৌঢ় প্রাক্তন রেলকর্মীকেও বেধড়ক মারধর করেছেন। সঙ্গে এক পুরোনো বিজেপি কর্মী ছিল, তাঁকেও মারধর করা হয়েছে। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে বলে ওই বিজেপি নেত্রী দাবি করেছেন। ঘটনায় চারজন জখম হয়েছেন। তাঁদের প্রথমে কোন্নগর পুরসভার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করানো হয়।

মহিলা বিজেপি নেত্রী শম্পা সিংহ বলেন, “কেন মারধর করা হয়েছে তা জানি না। আমরা বিজেপির কাজকর্ম করি বলে ওদের গায়ে লেগেছে। ওদের কাজ তোলাবাজি করা। সেটা বলতাম বলেই হয়তো আমাদের মারধর করা হয়েছে। আমার ডান হাতে আঘাত লেগেছে। আমরা চারজনই আহত হয়েছি।”

তাঁর আরও অভিযোগ, “আকাশ বিজেপির কোনও কাজকর্ম করে না। বিলাসবহুল জীবনযাপন করে। আকাশ রায় এবং মিঠু মুখোপাধ্যায় বলে এক কর্মীর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। এত অভিযোগ থাকার পরেও দল তাঁকে কেন সাসপেন্ড করছে না তা উর্ধ্বতন নেতৃত্ব বলতে পারবে।” তবে ঘটনায় এখনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। দল যদি নির্দেশ দেয় তা হলে উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী।

উল্লেখ্য, গত ২৩ অগস্ট ভোর ৩টে নাগাদ পার্ক স্ট্রিট থানার অন্তর্গত রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের কেজিএফ নামক একটি পানশালায় উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মন্ডল সভাপতি আকাশ রায় তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়েছিলেন। মদ‍্যপানের কোনও এক পর্যায়ে পানশালার কর্মীদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। তা থেকে পানশালার কর্মীদের মারধরও করা হয়। সেই সময় টহলরত পার্ক স্ট্রিট থানার কর্মীদের কাছে খবর আসে। তাঁরা সেখানে পৌঁছে ঝামেলা প্রশমিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মদ‍্যপ বিজেপি নেতা কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উর্দি ছিঁড়ে দেন। পুলিশকর্মীদের ধাক্কা দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পরে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ নেতা আকাশ রায়, উজ্জ্বল রায়, রাজীব সাহা এবং সৌরভ মাপদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। অভিযুক্তেরা সকলেই হুগলির কোন্নগড়ের এস সি চ‍্যাটার্জি রোডের বাসিন্দা। ধৃতদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের শান্তি ভঙ্গ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১২৬ (২) এবং ১৩২ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় পানশালার কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও পুলিশের উর্দি টেনে ছেঁড়ার মতো অভিযোগ থাকার পরে তাঁদের এক হাজার বন্ডে জামিন মঞ্জুর হয়। তার পরেও দল তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। তা নিয়ে হুগলি জেলার বিজেপির অন্দরেই ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নব নিযুক্ত সভানেত্রী শশি সিংহ কোন্নগর মাতৃসদন হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তবে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তার কিছু জানা নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এই ঘটনার প্রসঙ্গে উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মন্ডল সভাপতি আকাশ রায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি নেতা প্রনয় রায়ের বক্তব্য, তিনি দিল্লিতে ছিলেন। তাই বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেবেন বলে জানিয়েছেন। প্রনয় রায়, “দু’টি দিক আছে। একটি প্রশাসনিক দিক। অভিযোগ পেলে পুলিশ মতো দেখবে। আরেকটি রয়েছে দলীয় দিক। দল তদন্ত করে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি ব্যবস্থা নেবে।”


Share