Sand Smuggling

বালি ব্যবসায়ীর থেকে ৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ, নাম জড়াল সুমিত রায় এবং প্রতীক জৈনের তৎকালীন আপ্তসহায়কের, শালবনিত থানায় মামলা দায়ের

ব্যবসায়ীর দাবি, সুমিত ও সৌম্যজিৎ-সহ কয়েক জনের হাতে মোট ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সুমিতকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়।

অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, শালবনি
  • শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৩০

৫০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ। সেই মামলায় এ বার সিআইডি হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। একই মামলায় নাম রয়েছে আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের তৎকালীন আপ্তসহায়ক সৌম্যজিৎ সেনেরও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার জয়পুরের বাসিন্দা এক বালি ব্যবসায়ী সুমিত-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, ২০২৪ সালে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিলে গাড়িতে ‘ওভারলোড’ করে বালি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

গত জুনে শালবনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বালি ব্যবসায়ী নাদিয়া চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়িক সূত্রে প্রশান্ত দাস নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তিই প্রথমে তাঁর কাছে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

অভিযোগপত্রে নাদিয়া জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশান্ত তাঁকে এবং তাঁর চার সহযোগীকে কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে নিয়ে যান। সেখানেই সুমিত রায় এবং সৌম্যজিৎ সেনের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীর দাবি, প্রতি মাসে ৫০ লক্ষ টাকা দিলে যত ইচ্ছা ওভারলোড বালি পরিবহণ করা যাবে বলে সেখানে জানানো হয়েছিল।

এর পর অগস্টে প্রশান্ত এবং আশিক কাজি ইমাম নামে এক ব্যক্তির হাতে ৩০ লক্ষ টাকা দেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। কয়েক দিন পর ক্যামাক স্ট্রিটে আইপ্যাকের অফিসে গিয়ে সৌম্যজিতের হাতে নগদ ১৯ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে অনলাইনে বাকি টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি ওই ব্যবসায়ীর।

তবে টাকা দেওয়ার পরেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনও সুবিধা মেলেনি বলে তিনি জানান। প্রশান্ত, সুমিত, সৌম্যজিৎ এবং আশিকের সঙ্গে পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে পুলিশকে জানিয়েছেন নাদিয়া।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত জুনেই এফআইআর দায়ের করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সেই মামলাতেই এ বার সিআইডি হেফাজতে থাকা সুমিত রায়কে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করা হল। অর্থাৎ, অন্য একটি মামলায় আগে থেকেই হেফাজতে থাকা সুমিতকে এই মামলাতেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এরপর তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়।


Share