BJP Inner Clash

সপ্তগ্রাম বিধানসভায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত চুঁচুড়ার বিধায়ক! বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি, হুগলিতে প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে দুই বিধায়কের বক্তব্যে প্রকাশ্যে এসেছে দলের অন্দরের টানাপড়েন।

বিজেপির দলের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৫

বিজেপির দুই গোষ্ঠীর কর্মীদের হাতাহাতির জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে হুগলিতে। হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকাশ‍্য দিবালাকে দুই গোষ্ঠীর মারামারি একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, সপ্তগ্রাম বিধানসভা এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই বিড়ম্বনায় পড়েছে শাসকদল।

বিজেপির একাংশের অভিযোগ, মগরা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য তথা হুগলি জেলা কিষান মোর্চার সম্পাদক শ্রীকান্ত ভট্টাচার্যকে মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাঁশবেড়িয়া স্টেশন রোডের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ। তাঁর সেখানে যাওয়ার খবর পেয়ে শ্রীকান্ত-সহ কয়েক জন বিজেপি কর্মীও সেখানে পৌঁছোন। সুবীর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই শ্রীকান্ত-সহ কয়েক জনের ওপর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা চড়াও হন বলে অভিযোগ।

তাঁদের বক্তব্য, অন্য বিধানসভার বিধায়কের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কারণেই তাঁদের ওপর চড়, কিল ও ঘুষি মারা হয়। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, এক বাইকে বসে থাকা ব্যক্তি কয়েক জন ঘিরে ধরে রয়েছে। তাঁকে কিল, চড়, ঘুষি মারা হচ্ছে। তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এক পুলিশ আধিকারিক। ঘটনার পর দলের অন্দরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে, একজন বিধায়ক অন্য বিধানসভা এলাকায় গেলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে জানানোর প্রয়োজন তিনি মনে করেননি বলে।

সপ্তগ্রামের বিধায়ক স্বরাজ ঘোষের বক্তব্য, অন্য বিধানসভায় কোনও বিধায়ক গেলে সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে জানানো উচিত। তাঁর দাবি, চুঁচুড়ার বিধায়ক তাঁকে বিষয়টি জানাননি। যদিও ঘটনাস্থলে ঠিক কী হয়েছিল, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। খবর নিয়ে বিষয়টি জানাবেন বলেও জানান স্বরাজ। তাঁর কথায়, শুনেছেন নিজেদের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে কার সঙ্গে কার গন্ডগোল হয়েছে, তা এখনও তাঁর জানা নেই। বলেছেন— ‘খবর নিচ্ছি’।

অন্য দিকে, চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের দাবি, তাঁর সামনে কোনও গন্ডগোল হয়নি। তিনি আমন্ত্রণ পেয়েই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, যে কেউ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেতে পারেন। অন্য বিধানসভার বিধায়করাও বিভিন্ন কাজে চুঁচুড়ায় আসেন। দলের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন সুবীর। তাঁর কথায়, কেউ যদি ঘটনায় যুক্ত থাকেন, দল তাঁর বিরুদ্ধে ‘নিশ্চিত ভাবেই’ ব্যবস্থা নেবে।

এ দিকে, বাঁশবেড়িয়ার বিজেপির দলীয় কার্যালয়েও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া পড়েছে বলে অভিযোগ। দলেরই একাংশ অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজেপির কার্যালয়ে তালা দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মারধরের অভিযোগ ওঠা বিজেপি কর্মী শ্রীকান্ত ভট্টাচার্য ফোনে জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে বিজেপি করছেন। কার কী লবি রয়েছে, তা তিনি জানেন না। তবে নিজেদের দলের লোকের হাতেই এ ভাবে আক্রান্ত হতে হবে, তা ভাবেননি। তাঁর দাবি, শরীরের আঘাতের থেকেও মানসিক আঘাত বেশি কষ্ট দিয়েছে।

অন্য দিকে, যাঁর নেতৃত্বে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, সেই বিজেপি নেতা রানা মুখোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেছেন, “কিছু কর্মী দলের আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন।” তাঁর অভিযোগ, তাঁরাই দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি করছেন। বাঁশবেড়িয়া মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রয়োজন হলে এই ধরনের কাজের বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়েছেন। গোটা বিষয়টি জেলা সভাপতিকে জানাবেন বলে দাবি তাঁর।

এই ঘটনা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সপ্তগ্রামের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। দেবব্রত বিশ্বাস বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন কি না, সেই জল্পনাও তৈরি হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।

এর পর থেকেই সপ্তগ্রাম ও চুঁচুড়ার দুই বিধায়কের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে। যদিও প্রকাশ্যে দু’জনের কেউই এমন কোনও দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করেননি।


Share