Special Intensive Rivision

জোরকদমে চলছে ট্রাইবুনাল গঠনের কাজ, তৈরি হবে পৃথক সফটওয়্যার, প্রতিটি জেলায় থাকবে এই সুবিধা

ট্রাইবুনাল গঠনের পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবেন সুজয় পাল। কোন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতি এই দায়িত্ব নেবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও প্রধান বিচারপতির সুপারিশ অনুযায়ী হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সুপারিশ কার্যকর করতে কোনও রকম দেরি করা যাবে না।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১১:৫৮

রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তির জন্য প্রথম ধাপ হিসেবে ট্রাইবুনাল গঠনের কাজ শুরু হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে পৃথক ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইবুনালে একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং কলকাতা হাই কোর্টের দুই থেকে তিন জন বিচারপতি থাকতে পারেন।

ট্রাইবুনাল গঠনের পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবেন সুজয় পাল। কোন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতি এই দায়িত্ব নেবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও প্রধান বিচারপতির সুপারিশ অনুযায়ী হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সুপারিশ কার্যকর করতে কোনও রকম দেরি করা যাবে না। পাশাপাশি, ট্রাইবুনাল জন্য প্রয়োজনীয় দফতর, পরিকাঠামো, প্রশাসনিক সহায়তা এবং পৃথক আইটি সেল গড়ে তোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুরো খরচ নির্বাচন কমিশন বহন করবে।

প্রশাসনের মতে, ট্রাইবুনাল গঠনই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ বিচারাধীন নামগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এই কাঠামো তৈরি না হলে শুরু করা সম্ভব নয়। বিচারক নিয়োগ, অফিস নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানানো হয়েছে।

এরই মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ সফটওয়্যার তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সফটওয়্যারটি প্রকাশ্যে আসতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আরও চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। অনুমোদন মিললেই সেটি আপলোড করা হবে।

প্রশাসনিক সূত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, যাঁদের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে, তাঁরা আপাতত কোনও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। কারণ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেই আইনি জটিলতা তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ লক্ষ আবেদন ও আপত্তির নিষ্পত্তি হয়েছে, যদিও এখনও বহু নামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে বিচারাধীন নামগুলির নিষ্পত্তি কত দ্রুত সম্পূর্ণ হয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের প্রধান নজরের বিষয়।


Share