Bangladeshi Arrested

পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার দুই বাংলাদেশি যুবক, বাংলাদেশের ইসলামিক নেতা ওসমান হাদিকে খুনের অভিযুক্ত বলে দাবি পুলিশের

ধৃতদের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল (৩৭) এবং আলমগির হোসেন (৩৪)। ফসয়াল করিম বাংলাদেশের পটুয়াখালির বাসিন্দা। আলমগির বাংলাদেশ রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

শরিফ ওসমান বিন হাদিকে খুনের ঘটনার দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:০৬

আবার রাজ্য থেকে গ্রেফতার দুই বাংলাদেশি। শুধু তা-ই নয়, ধৃতেরা বাংলাদেশের ইসলামিক সংগঠনের নেতা ওসমান হাদিকে খুন করেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। তাদেরকে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছে। রবিবার ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ধৃতদের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল (৩৭) এবং আলমগির হোসেন (৩৪)। ফসয়াল করিম বাংলাদেশের পটুয়াখালির বাসিন্দা। আলমগির বাংলাদেশ রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গত ৭ মার্চ রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগির হোসেন বাংলাদেশের ইসলামিক সংগঠনের নেতা ওসমান বিন হাদিকে খুনের করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। এসটিএফ জানিয়েছে, ওসমান হাদিকে খুনের পরে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে গা ঢাকা দিয়েছিল। তার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সেই কারণেই বনগাঁয় আসে তারা। এ ছাড়াও, বাংলাদেশে তোলাবাজি এবং খুন-সহ একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে ধৃতেরা জড়িত রয়েছে বলেও দাবি করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।

এসটিএফ একটি মামলা (কেস নম্বর: ০৯/২০২৬) রুজু করেছে। ধৃতদের রবিবার আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। কীভাবে তাঁরা ভারতে প্রবেশ করেছিল, আর কোথায় কোথায় দিয়েছিল, তা জানার জন্য ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম, মণিপুর, অসম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়কে একসঙ্গে ‘সেভেন সিস্টার্স’ বলা হয়ে থাকে। মৃত্যুর আগে আর এই ‘সেভেন সিস্টার্স’ দখল করে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানানোর ‘দিবা স্বপ্ন’ দেখেছিল ইসলামিক নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি। তার জন‍্য উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে একত্রিত করার ডাকও দিয়েছিল ওসমান বিন হাদি।

৩২ বছর বয়সেই ওসমান ইসলামিক কট্টরপন্থা প্রচার করত। সেই চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে তৈরি হওয়া ইসলামিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’- এর মুখপাত্র হয়ে ওঠে। পরে ওসমান ওই ইসলামিক সংগঠনের আহ্বায়ক হয়। ২০২৪ সালের জুলাই বিদ্রোহের পর ইসলামিক আন্দোলনে গতি আনতে ওসমান হাদির এই ভারত বিরোধী এবং হিন্দুবিদ্বেষী অবস্থান নেয়। সম্প্রতি ওসমানের হাদির কিছু বক্তব্যে তা উঠে এসেছে। গত ১২ ডিসেম্বর, ওসমান হাদির ওপর হামলার আগে সমাজমাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছিল। সেই পোস্টে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’-এর একটি মানচিত্র দেখানো হয়েছিল। সেই পোস্টে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যকে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত করার ‘দিবা স্বপ্ন’ সেই দেশের যুবকদের দেখানো হয়। শুধু তা-ই নয় ওসমান হাদি হিন্দুবিদ্বেষী বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

ইসলামিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতা ওসমান হাদি মূলত আওয়ামি লিগ, ভারত এবং হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য রাখার জন‍্য বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রায়ই ভারত বিরোধী বক্তব্যকে হাতিয়ার করেছে এই ওসমান হাদি। এর পরেই শরিফ ওসমান বিন হাদি ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শুরু হওয়া শেখ হাসিনা এবং ভারত বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠে। সেই সময় এই সংগঠন আওয়ামি লিগের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল বলেও জানা যায়।

গতবছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল ইসলামি সংগঠনের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি। সরকারি উদ্যোগে তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাথায় গুলি লাগায় হাদির শারীরিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছিল। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।  ইসলামিক নেতা ওসমানের মৃত্যুর পর ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ভারতের প্রসঙ্গ টেনে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখে, “ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আল্লাহ্ মহান বিপ্লবী উসমান হাদিকে শহিদ হিসেবে কবুল করেছেন।”

‘ইসলামিক চরমপন্থী’ নেতার মৃত্যু সংবাদ সামনে আসতেই সারা দেশজুড়ে হিংসার ঘটনার সামনে আসে। ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত‍্যা করে। তার পরে তাঁকে দড়ি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসলামিক দুস্কৃতীরা। বাদ যায়নি সংবাদমাধ্যমও। এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করে ইসলামিক দুস্কৃতীরা। বাংলাদেশের প্রথম সারির বাংলা সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ এবং ইংরেজি দৈনিক ‘দ‍্য ডেইলি স্টার’-এর দফতরে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়। কোনও মতে ছাদে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বাঁচেন সাংবাদিকেরা।

ওই দিন গোটা রাত বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় তান্ডব চালায় ইসলামিক দুস্কৃতীরা। রাস্তায় নেমে ভারত বিরোধী স্লোগান দিতে থাকে তারা। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পুলিশ এবং সেনা কার্যত দর্শকের ভূমিকা পালন করে। শুক্রবার সারাদিন তারা হাইকমিশনের অফিসের বাইরে অবস্থান করে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা এবং খুলনায় মুজিবর রহমানের বাড়িতে বুলডোজার নিয়ে এসে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুর হয়েছে আওয়ামি লিগের কার্যালয়ও। শুক্রবার ফের ইসলামিক দুস্কৃতীরা মুজিবের বাড়িতে ফের ভাঙচুর চালায়।

রবিবার ইসলামিক সংগঠনের নেতাকে খুনের দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল রাজ‍্য পুলিশ।


Share