RG Kar Hospital

‘বাঁচাও’ চিৎকার কানে যায়নি! আরজি করে লিফটের ফাঁদে মৃত্যু, গানে মত্ত ছিলেন দায়িত্বে থাকা কর্মীরা

লিফটে আটকে পড়ে পর প্রাণে বাঁচতে চেষ্টা করেছিলেন অরূপ। বার বার চিৎকার সত্ত্বেও সেই আর্তনাদ কারো কানে পৌঁছোয়নি। সে সেখানে সময় লিফটম্যানও ছিলেন না। যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা আসলে কোথায় ছিলেন কেউ জানে না।

আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৬:২৭

শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যু হয়েছে দমদমের এক ব্যক্তির। সেই ঘটনায় শনিবার অভিযুক্ত লিফটম্যান ও নিরাপত্তারক্ষীদের শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। সেখানে আশ্চর্যকর এক তথ্য জানাল পুলিশ। যে সময় মৃত ও মৃতের পরিবার তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়েছেন সেই সময় লিফটম্যানেরা গান শুনতে ব্যস্ত।

শুক্রবার অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ছোটো ছেলের পায়ের আঘাতের চিকিৎসা করাতে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আরজি করে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিন জন লিফটে আটকে পড়েন। স্ত্রী, ছেলে কোনও ভাবে বেরিয়ে এলেও অরূপ পারেননি। উল্টে আটকে পড়েন চলন্ত লিফট ও ফ্লোরের মাঝে। মারাত্মক অভিঘাতে দুমড়ে যায় তাঁর শরীর। অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ফেটে যায়। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত। বাঁচানো যায়নি তাঁকে।

লিফটে আটকে পড়ে পর প্রাণে বাঁচতে চেষ্টা করেছিলেন অরূপ। বার বার চিৎকার সত্ত্বেও সেই আর্তনাদ কারো কানে পৌঁছোয়নি। সে সেখানে সময় লিফটম্যানও ছিলেন না। যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা আসলে কোথায় ছিলেন কেউ জানে না।

শুক্রবার রাতেই তিন লিফটম্যান তিন লিফটম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস এবং মানসকুমার গুহকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়াও গ্রেফতার করা হয় নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান ও শুভদীপ দাসকে। টালা থানার পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করলেও রাতেই তদন্তভার কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে যায়। শনিবার তাদের আদালতে তোলা হলে পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা ঘটনার সময়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেননি। তাঁরা গান শুনছিলেন। গানে এতটাই মত্ত ছিলেন, ভিতরের আর্তনাদের শব্দ কান অবধিই পৌঁছয়নি।

এদিন ঘটনাস্থলে আরজি করের ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে পৌঁছোয় ফরেন্সিক টিম। সেখানে তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করে। এ দিনও অরূপের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে জানান, লিফটের পাশে লিফটম্যানের নম্বর লেখা, সুপারভাইজারের নম্বর লেখা। অথচ কাউকে টেলিফোনটুকু করতে পারল না ওরা? তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, বৌমা বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করছে, আপনি ফোন করুন। একটা সরকারি হাসপাতাল। অথচ সেখানে লিফটম্যান নেই, কেউ নেই। এ তো অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের টোটাল ফেলিওর।’

যদিও আরজি করের মেডিকেল সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় শুক্রবারই বলেছিলেন, ‘যদি লিফটম্যান থাকত তা হলে কখনওই এই মৃত্যু হতো না। যদি বলেন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, মেনে নিচ্ছি এটা একটা ফল্ট। এটা যাতে আর কখনও না হয়, সে দিকে নজর থাকছে। ৩২টা লিফট আরজি করে। কোনও লিফটে লিফটম্যান না থাকলে, আমরা সেখানে কাউকে অ্যালাও করছি না। আর আমাদের কাছে কখনও অভিযোগও আসেনি লিফটম্যান থাকে না।’

এ দিন আদালতে মৃতের পরিবারের আইনজীবীরা সওয়াল করেন, ধৃত পাঁচ জন ছাড়াও আরও কয়েক জন ছিলেন, যাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেননি। তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনা হোক। শিয়ালদহ আদালত ধৃতদের আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। 


Share