Supreme Court

সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি নেই প্রশান্ত বর্মনের, ফেরার বিডিওকে কড়া ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের

প্রশান্তের মামলা খারিজ করে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চের কড়া মন্তব্য, “একজন ব্যক্তি পুরো সিস্টেমকে উপহাস করে রেখে দিয়েছেন।”

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৪২

সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও রেহাই পেলেন না স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। তাঁর আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, হাই কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে চলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশান্তের মামলা খারিজ করে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চের কড়া মন্তব্য, “একজন ব্যক্তি পুরো সিস্টেমকে উপহাস করে রেখে দিয়েছেন।” একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করায় রাজ্যকেও ভর্ৎসনা করেছে আদালত।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল, গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে প্রশান্তকে। কিন্তু সেই নির্দেশ পালন না করে তিনি উল্টে হাই কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার মামলাটি শীর্ষ আদালতে উঠলে প্রশান্তের আইনজীবীর কাছে তাঁর আত্মসমর্পণ না করার কারণ জানতে চান বিচারপতিরা। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কী ভাবে পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বেঞ্চ। রাজ্যকে উদ্দেশ করে বিচারপতিরা বলেন, “আপনারা কী করছেন? হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এখনই পদক্ষেপ করুন।” হাই কোর্টের নির্দেশের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয় বলেও স্পষ্ট করে দেয় শীর্ষ আদালত।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চ প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি, অবিলম্বে তাঁর বেতন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। আত্মসমর্পণের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রশান্তের সম্পত্তির তালিকা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

গত বছর বিধাননগরের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্তের। জুলাই মাসে মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে অভিযোগ। অথচ তিনি নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত ১০ সেপ্টেম্বর এই বিষয়েই সিআইডি এবং রাজ্যকে ভর্ৎসনা করেছিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। তাঁর প্রশ্ন ছিল, বিডিওর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি।

এই মামলায় প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত। সেই জামিনের বিরোধিতা করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। পরে হাই কোর্ট আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে থেকে যান।

এরই মধ্যে গত ২৫ মে পথসুরক্ষা বিধি ভাঙার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন প্রশান্ত। অভিযোগ, নিউ টাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় তাঁর গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী আহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরের দিন বারাসত আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছিলেন। ২৬ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও খুনের মামলার নথি না আসায় জামিন পেয়ে যান প্রশান্ত। তার পর থেকে ফের তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ এবং তাঁকে গ্রেফতারের বিষয়ে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল।


Share