Amit Shah on Congress

পশ্চিমবঙ্গে ৪৯ বছর ক্ষমতার বাইরে কংগ্রেস! ভোট চুরির অভিযোগে রাহুলদের পাল্টা রাজ্য ধরে ধরে হিসেব দিলেন অমিত শাহ

ভোট চুরির অভিযোগে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যেই কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ অমিত শাহের। পশ্চিমবঙ্গে ৪৯ বছর-সহ একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসের দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার হিসেব তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১২

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে যখন আন্দোলনে নেমেছে বিরোধীরা, তখন কংগ্রেসের দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার প্রসঙ্গ সামনে এনে পাল্টা আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে কত বছর ধরে কংগ্রেসের কোনও মুখ্যমন্ত্রী নেই, সেই হিসেব তুলে ধরে রাহুল গান্ধী ও বিরোধী জোটকে নিশানা করেছেন তিনি। শাহের বক্তব্য, নির্বাচনে বারবার পরাজয়ের কারণ খুঁজতে কংগ্রেসের আত্মসমালোচনা করা উচিত।

রাজ্য ধরে ধরে কংগ্রেসকে আক্রমণ শাহের

কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ুতে ১৯৬৬ সাল থেকে, পশ্চিমবঙ্গে ৪৯ বছর, সিকিমে ৪২ বছর, উত্তরপ্রদেশে ৩৭ বছর, বিহারে ৩৬ বছর, ত্রিপুরায় ৩৩ বছর, গুজরাতে ৩০ বছর, ওড়িশায় ২৬ বছর, নাগাল্যান্ডে ২৩ বছর এবং মহারাষ্ট্রে ১২ বছর ধরে কংগ্রেসের কোনও মুখ্যমন্ত্রী নেই।

শাহের কটাক্ষ, ভোট চুরির কারণেই যদি কংগ্রেস বছরের পর বছর ক্ষমতায় ফিরতে না পারে, তাহলে ভোট চোরেরা তাদের পাশেই বসে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন

কংগ্রেসকে আত্মচিন্তার পরামর্শ দিয়ে শাহ দাবি করেন, রাহুল গান্ধী নেতৃত্বে আসার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছেন মানুষ। তাঁর আরও দাবি, রাহুলের নেতৃত্বেই ইন্ডিয়া জোটে ভাঙন শুরু হচ্ছে।

ভোট চুরি বিতর্কে রাজনৈতিক সংঘাত

অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, সংশোধনের নামে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং অনিয়মের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হয়।

বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের পর ভোট প্রক্রিয়াকে দায়ী না করে বিরোধীদের নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক কৌশল পর্যালোচনা করা উচিত। ফলে ভোট চুরি বিতর্ককে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।
 


Share