Traffic Update

পুজোর ভিড় সামলাতে তৎপর লালবাজার, শহরজুড়ে নামছে ২০ হাজার ভলান্টিয়ার

বুধবার, চতুর্থীর বিকেল ৪টে থেকে আরও বেশি সংখ্যায় পুলিশকর্মী ও আধিকারিকেরা রাস্তায় নামবেন। বড় মণ্ডপ থেকে ছোট পুজো, মেট্রো স্টেশন থেকে গঙ্গার ঘাট—শহরের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৬

পুজোর ভিড় সামলাতে কোমর বেঁধে নামছে কলকাতা পুলিশ। গত বছরের তুলনায় এ বার শহরে দুর্গাপুজোর সংখ্যা ৪০০-রও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮১। ফলে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি সতর্ক লালবাজার। তৃতীয়া থেকেই শুরু হচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি। বুধবার, চতুর্থীর বিকেল ৪টে থেকে আরও বেশি সংখ্যায় পুলিশকর্মী ও আধিকারিকেরা রাস্তায় নামবেন। বড় মণ্ডপ থেকে ছোট পুজো, মেট্রো স্টেশন থেকে গঙ্গার ঘাট—শহরের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

লালবাজার সূত্রে খবর, এ বছর সবচেয়ে বেশি পুজো হচ্ছে যাদবপুর বা এসএসডি ডিভিশনে। সেখানে পুজোর সংখ্যা ৬৮৫। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেহালা বা এসডব্লুডি ডিভিশন। সেখানে ৫৯৮টি পুজো হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্ব কলকাতায় ৩৩৫টি, উত্তর কলকাতায় ৩১২টি, দক্ষিণ কলকাতায় ২৫৮টি, দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতায় ২০৮টি, পূর্ব ডিভিশনে ১৯৩টি, ভাঙড়ে ১৪৮টি, মধ্য কলকাতায় ১২৮টি এবং বন্দর এলাকায় ১১৬টি পুজো হচ্ছে।

কলেজ স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্ক, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার ও অ্যালেন পার্কের মতো বড় পুজোগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বড় মণ্ডপগুলির আশপাশে থাকবে পুলিশ পিকেট। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যেতে পারেন, সে দিকেও নজর রাখবেন পুলিশকর্মীরা।

বুধবার বিকেল ৪টে থেকে পুলিশকর্তা ও আধিকারিকদের সঙ্গে রাস্তায় থাকবেন প্রায় ২০ হাজার ভলান্টিয়ার। ভিড় সামলানো, রাস্তা পারাপার সহজ করা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। দিনের বেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে শহরের ২৭টি মণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ডিভিশনে গড়ে ১০ থেকে ১৫টি ছোট মণ্ডপেও থাকবে পুলিশি নজরদারি। কোথাও সার্জেন্ট, কোথাও আবার এএসআইয়ের নেতৃত্বে চার থেকে আটজন পুলিশকর্মী দায়িত্ব সামলাবেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে দু’দফায় ২০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড, ১০টি স্পেশাল রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৩০টি পিসিআর মোবাইল ভ্যান মোতায়েন করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এই গাড়িগুলি। কোথাও আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটলে দমকলের গাড়ি যাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও সাহায্য করবে পুলিশ।

গঙ্গার ঘাটগুলিতে নজরদারির জন্য কলকাতা পুলিশের তিনটি লঞ্চ ১৫টি ঘাটে টহল দেবে। অন্য ঘাটগুলিতেও চলবে নজরদারি। এ ছাড়া শহরের ৪২টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে বাইনোকুলারের সাহায্যে ভিড়ের উপর নজর রাখবেন পুলিশকর্মীরা।

শহরজুড়ে টহল দেবে সাতটি মোবাইল পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট ভ্যান। ছ’টি জায়গায় থাকবে ট্রাফিক পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ। পাশাপাশি ন’টি জায়গায় কমব্যাট বাহিনী-সহ কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকবে ১৪টি পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্স এবং ১৪টি ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। নিখোঁজ শিশু ও প্রবীণদের খুঁজে পেতে থাকবে ১০টি মিসিং পার্সন স্কোয়াডের গাড়ি। এ ছাড়া শহরের ৩২টি মেট্রো স্টেশনেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

পুজোর ভিড় সামলানোর পাশাপাশি বিসর্জনেও যাতে নিরাপত্তার ঘাটতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখছে লালবাজার। আগামী ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বিসর্জন পর্ব। সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলিতে শহরের রাস্তাঘাট, মণ্ডপ, মেট্রো স্টেশন ও গঙ্গার ঘাটে নিরাপত্তা বজায় রাখাই কলকাতা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।


Share