‘আমরা জানতাম বিচারক নিয়োগ করলে পালিয়ে যাবেন,’ এসআইআর মামলায় আবার ভর্ৎসিত রাজ‍্য সরকার, মামলা ফিরিয়ে দিল শীর্ষ আদালত

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমোদন ছাড়া বিচারবিভাগীয় কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, কমিশন এমন কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না। সব রকম প্রযুক্তিগত ত্রুটির সমাধান করতে হবে কমিশনকে। প্রয়োজন অনুসারে সময় নষ্ট না-করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নতুন লগইন আইডি তৈরি করতে হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ০৪:১২

রাজ‍্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) মামলায় আবার ভর্ৎসিত রাজ্য সরকার। ৬৩ লক্ষ ভোটারদের নথি যাচাই করছে কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকেরা। তা নিয়ে একটি মামলা দায়ের হয়। কেন এ ধরনের মামলা দায়ের করা বহন তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা বর্তমানে কাজ করছেন। এসআইআরের তদারকিকে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না।” যদিও রাজ‍্য সরকারের তরফে মেনকা গুরুস্বামী জানান, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলছেন না।

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে রাজ‍্য সরকারের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানান, এখনও প্রায় ৫৭ লক্ষের নিস্পত্তি বাকি রয়েছে। প্রধান বিচারপতি মামলার শুনানিতে রাজ‍্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “আমরা জানতাম, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে নিযুক্ত করলে আপনারা পালিয়ে যাবেন। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্ট আমাদের জানিয়েছে, ১০ লক্ষের নিস্পত্তি হয়েছে।” বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যখন এই কাজ করছে তখন কী ভাবে এমন আবেদন করা যায় তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তার পরেই রাজ্যের আবেদন শীর্ষ আদালত ফিরিয়ে দিয়েছে।

এই মামলার শুনানিতে রাজ‍্য সরকারকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট এ-ও বলেছে, আদালত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের ‘সততা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও চেষ্টা বরদাস্ত করবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “আপনাদের আবেদনটি সময়ের আগেই করা হয়েছে। মনে হচ্ছে, আপনারা তা বিশ্বাসই করেন না।” এর পরেই রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনাদের কীভাবে এমন আবেদন দায়ের করার সাহস হল? কেউই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস দেখাবে না। ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি এটা কোনোও ভাবেই সহ্য করব না,”

শীর্ষ আদালত বলে, ‘‘আমরা আগের নির্দেশেই বলেছিলাম বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা নির্বাহী কর্তাদের কাছে আবেদন করা যাবে না।’’ তার পরেই ট্রাইবুনাল গঠন করার কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। সেই ট্রাইবুনালে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং হাই কোর্টের দু’-তিন জন বিচারপতি থাকবেন। কারা থাকবেন, তা ঠিক করবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। বিচারবিভাগীয় কাজ সংক্রান্ত আবেদন সেই ট্রাইবুনালে করা যাবে। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আবেদন করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত জানায়, এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিই। তাঁর কাছে আবেদন করা যেতে পারে। তিনি আবেদন বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনকে তালিকা প্রকাশের ব্যাপারে নির্দেশ দেবেন।

একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত যোগ করে বলেন, “যদি কোনো বিচারবিভাগীয় আধিকারিক প্রাথমিক ভাবে মনে করেন, যে আপনি ভোট দেওয়ার যোগ্য নন, তাহলে আপনি ভোট দিতে পারবেন না।” এক বার একটি বিষয়ে কেন হস্তক্ষেপ করতে হবে বলেও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, ভোটার তালিকায় অযোগ্য‍্য ভোটার থাকবে না বলেই এসআইআর করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, “সমস্ত প্রকৃত ভোটারেরা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর যাঁরা অননুমোদন পাবেন না তাঁরা তালিকায় থাকবেন না। সেই বিষয়টি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা দেখছেন। তাহলে আমাদের কেন এতে হস্তক্ষেপ করতে হবে? ভোটের আগের দিন পর্যন্ত যদি কোনও ভোটারের ওপর থাকা সন্দেহ দূর হয়, তাহলে তিনি ভোট দিতে পারবেন।”

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অনুমোদন ছাড়া বিচারবিভাগীয় কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, কমিশন এমন কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না। সব রকম প্রযুক্তিগত ত্রুটির সমাধান করতে হবে কমিশনকে। প্রয়োজন অনুসারে সময় নষ্ট না-করে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নতুন লগইন আইডি তৈরি করতে হবে।


Share