Sankrail Rail Hub

হাওড়া-শালিমারের ভিড় কমাতে সাঁকরাইলেই নতুন রেল টার্মিনাল, বাড়বে ট্রেন পরিষেবা

যাত্রী ভিড় বাড়ায় বড় সিদ্ধান্ত দক্ষিণ-পূর্ব রেলের। টার্মিনালের চাপ কমাতে সাঁকরাইলে নতুন কোচিং টার্মিনাল গড়ার পরিকল্পনা। চালু হলে বাড়বে ট্রেন সংখ্যা, স্বস্তি মিলবে হাওড়া-শহরতলির যাত্রীদের।

শালিমার স্টেশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৪

যাত্রী সংখ্যা ও ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকায় বড় সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণ-পূর্ব রেল। নতুন ট্রেন চালু এবং বিদ্যমান টার্মিনালগুলির উপর চাপ কমাতে খড়াপুর ডিভিশনের সাঁকরাইল এলাকায় নতুন কোচিং টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আগেই জানিয়েছেন, দেশের বড় শহরগুলিতে নতুন কোচিং টার্মিনাল নির্মাণ ও পুরনো টার্মিনাল আধুনিকীকরণের মাধ্যমে রেল পরিষেবার সক্ষমতা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ করা হবে।

রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে টার্মিনালগুলির ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর জন্য অতিরিক্ত প্ল্যাটফর্ম, ইয়ার্ড, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকাঠামো, মাল্টিট্র্যাকিং ও আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। কলকাতা অঞ্চলের ক্ষেত্রে এই নতুন কেন্দ্র হিসেবে সাঁকরাইলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্তমানে হাওড়া, সাঁতরাগাছি ও শালিমার—এই তিনটি প্রধান টার্মিনাল থেকে মুম্বই, চেন্নাই-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ৭৬ জোড়া লোকাল ট্রেন এই টার্মিনালগুলি ব্যবহার করে, ফলে অবকাঠামোর উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আবাদা ও সাঁকরাইল স্টেশনের মাঝামাঝি নতুন কোচিং টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রেল আধিকারিকেরা।

হাওড়া থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে প্রস্তাবিত এই টার্মিনাল চালু হলে নতুন ট্রেন চালানোর সুযোগ বাড়বে বলে আশা রেলের। জাতীয় ১৬ নম্বর সড়কের কাছাকাছি অবস্থানের ফলে সড়কপথে যাতায়াতও সহজ হবে। পাশাপাশি আবাদা, সাঁকরাইল ও আন্দুল স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেন ধরেও যাত্রীরা সহজে সেখানে পৌঁছতে পারবেন।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের যাত্রী চাপ সামাল দিতে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে। হাওড়া-জকপুর প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয় দোলুই বলেন, 'মূলত দূরপাল্লার ট্রেনগুলি লাইন ব্লক করে রাখে বলেই, লোকাল ট্রেন অনেক সময়ে ঢুকতে বা ছাড়তে দেরি হয়। সাঁকরাইলে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। সেখানে যদি নতুন কোচিং টার্মিনাল করা যায়, তাতে নিঃসন্দেহে হাওড়া, শালিমার ও সাঁতরাগাছির উপরে চাপ কমবে এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলের লোকাল ট্রেন চলাচলে গতি আসবে বলে আমরা মনে করি।' দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


Share