Calcutta High Court

হাতে ট্যাটু থাকলে সরকারি চাকরি থেকে বাদ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সিদ্ধান্তই বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট

নির্দেশিকা অনুযায়ী, ট্যাটু সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আছে। এমনকী ট্যাটু তুলে ফেললেও পোড়া দাগ থেকেই যায়। যা দেহে ক্ষতের নামান্তর। তাই ওই যুবককে আনফিট ঘোষণা করা হয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:১৫

সেলিব্রিটিদের হাতে বা দেহে ট্যাটু বা উল্কি করা ফ্যাশন। কিন্তু হাতে থাকা ট্যাটুর জন্যই সরকারি চাকরি হাত ছাড়া হল যুবককের। বুধবার কলকাতা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের রায়, হাতে ট্যাটু থাকলে তো বটেই পরে সেই ট্যাটু তুলে ফেললেও সেখানে ক্ষত থাকে যায়। যা কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর চাকরিতে দেহে ত্রুটি হিসেবেই ধরা হয়। ফলে অন্য সবরকম যোগ্যতা সত্ত্বেও এক যুবককে চাকরি না দেওয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সিদ্ধান্তই বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট।

যুবকের নাম ঝন্টু সরকার। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার কদম্বগাছির এলাকার বাসিন্দা। ঝন্টু সরকার কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর কনস্টেবল পদে চাকরির জন্যে আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় পাশও করেন। গত বছর নভেম্বরে তাঁর মেডিক্যাল টেস্ট হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিধি অনুযায়ী, তাঁর ডান হাতে ট্যাটু থাকায় তাঁকে অযোগ্য চিহ্নিত করা হয়। পরীক্ষায় তাঁকে ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হয়। ওই যুবক ফের মেডিক্যাল পরীক্ষার আবেদন করেন। গত ৪ ডিসেম্বর ফের মেডিক্যাল পরীক্ষার আগে তিনি তাঁর হাতের ট্যাটু মুছেও ফেলেছিলেন। তার পরেও কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনফিট ঘোষণা করেন। কারণ, থেরাপির মাধ্যমে হাতের অংশে ট্যাটু মুছতে গিয়ে অনেকটা জায়গায় পোড়া দাগ হয়ে যায়। বাহিনীর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দারস্থ হন ওই যুবক।

বিচারপতি ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চকে কেন্দ্রীয় বাহিনী জানায়, নির্দেশিকা অনুযায়ী, ট্যাটু সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আছে। এমনকী, ট্যাটু তুলে ফেললেও পোড়া দাগ থেকেই যায়। যা দেহে ক্ষতের নামান্তর। তাই ওই যুবককে ‘আনফিট’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আধাসামরিক বাহিনীর আইনজীবী স্মরজিত রায় চৌধুরী আদালতে জানান, নিয়মশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কারণে ট্যাটু ফোর্সের চাকরিতে অনুমোদিত নয়। যদিও মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে বলেন, হাতে শুধু ‘মা’ লেখা ছিল। তা তুলে ফেলা হয়েছে। এটা ভুল। আর এক বার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। যদিও আদালত তাঁর অনুরোধে সাড়া দেয়নি।


Share