Alipore Fire Incident

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত! আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের, শুরু তদন্ত

প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরও সাতটি ইঞ্জিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পাঠানো হয়। মোট ১০টি ইঞ্জিন দেড় ঘণ্টা কাজ করার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে।

আলিপুরের জেলা পরিষদ জ্বলছে আগুন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৯:৪৬

আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের দফতরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুর্নীতির তথ‍্যপ্রমাণ নষ্ট করতেই পরিকল্পনা করে আগুন ধরানো হয়েছে সরকারি ভবনে। ঘটনায় এ বার আলিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসকের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মামলা রুজু করেছে। অভিযোগ, বিস্ফোরক পদার্থ ব‍্যবহার করে সেখানে আগুন ধরানো হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ধারাও দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

বুধবার সকালে আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এক ব‍্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে তিনটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরও সাতটি ইঞ্জিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পাঠানো হয়। মোট ১০টি ইঞ্জিন দেড় ঘণ্টা কাজ করার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে। 

জানা গিয়েছে, এই চতুর্থ তলাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ জাহাঙ্গির খানের দফতর রয়েছে। জেলা পরিষদের যে কোনও বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ একটি দফতর পান। সেই মতোই তিনিও পেয়েছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। রাস্তা হয়নি কিন্তু কোষাগারের টাকা উঠে গিয়েছে। রাস্তায় আলো বসেনি, কিন্তু টাকা উঠে গিয়েছে। সেই টাকা কলকাতার প্রভাবশালীদের পকেটে চলে গিয়েছে— এমন অভিযোগ জাহাঙ্গিরের পাড়াতেই কান পাতলে শোনা যায়। 

দমকল সূত্রে প্রাথমিক অনুমান ছিল, ওই ভবনের চতুর্থতলায় এসির শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুন লাগে। তার পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। পরে থানায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক অজ্ঞাতপরিচয় ব‍্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। তাহলে কী দুর্নীতির ফাইল লোপাট করতেই দফতরের আগুন ধরানো হয়েছে, না কি এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না এলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ওই কর্মাধ্যক্ষের দফতরে নথিপত্র আদৌ কিছু আস্ত আছে কি না তা নিয়েও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। 

উল্ল‍েখ‍্য, তোলাবাজি-গুন্ডামি-ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় একাধিক অভিযোগের মামলা দায়ের হয়। ফলতার নির্বাচনের পর থেকেই পুলিশ জাহাঙ্গিরকে খুঁজছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, নেপাল সীমান্ত থেকে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি করেছে, জাহাঙ্গির পরিবার নিয়ে নেপালে পালানোর ছক কষেছিল। তিনি বর্তমানে জেলে রয়েছেন।


Share