Cabinet Ministers

শিল্পমন্ত্রী তাপস, স্বাস্থ্যে শারদ্বত, শিক্ষাদফতর সঙ্ঘের, মন্ত্রীদের বন্টন করা হল দফতর

বুধবার মন্ত্রীদের দফতর বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। তাপস রায়ের দায়িত্ব বাড়ল। অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে স্বপন দাশগুপ্ত। কারা কোন দফতর পেলেন তা ঘোষণা করেছেন রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ০৮:০৫

মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু বাকি ছিল দফতর বন্টন। মন্ত্রীদের দফতর বন্টন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। তার পরেই বুধবার সকালে মন্ত্রীদের তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র দফতর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতেই রয়েছেন। পাশাপাশি, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর, বিদ‍্যুৎ, আইন ও বিচার, তথ্য ও সংস্কৃতি, উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন পেশায় চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নিউ টাউনের মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে জানান। 

রাজ‍্যের শিল্পমন্ত্রী করা হয়েছে তাপস রায়কে।  সঙ্গে থাকছে অচিরাচরিত শক্তি দফতরেরও দায়িত্ব। রাজ‍্যের অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে। উচ্চশিক্ষা হয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্বে গিয়েছে দীপক বর্মণের হাতে। অর্জুন সিংহকে পরিবহণমন্ত্রী করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে শ্রম দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন‍্য দিকে, নিশীথ প্রামাণিকের হাত থেকে ক্রীড়া দফতরকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর হাতে শুধু উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে রাখা হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী করা হয়েছে ইন্দ্রনীল খাঁ-কে। দুধকুমার মণ্ডলকে কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছে। মালতী রাভা রায়কে নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, প্রকল্প নজরদারি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শঙ্কর ঘোষকে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কল‍্যান চক্রবর্তীকে খাদ‍্য প্রক্রিয়াকরণ, উদ‍্যান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, তথ‍্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

৩৪ বছর বাম জমানা এই শিক্ষা দফতরকে নানা হাতে দেওয়া হয়েছিল। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দীর্ঘদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ব্রাত্য বসু সামলেছেন। গত ১৫ বছরে দফতরে বেলাগাম দুর্নীতিকে কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলাই এখন রাজ‍্য সরকারের অন‍্যতম চ‍্যালেঞ্জ।

বিজেপি এবং আরএসএস-এর নেতৃত্ব মনে করেন, বাম জমানায় তৈরি হওয়া শিক্ষানীতি, পাঠ‍্যক্রম এবং শিক্ষাব‍্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সমস্ত পাঠ‍্যক্রমেই বামপন্থীদের ঝোঁক রয়েছে। যা আদৌ হয়নি তা শিশুদের পড়ানো হয়। ‘বামপন্থা’ কত মহান তা-ই দেখানো হয়। তারপরে তৃণমূল জমানাতে তা বর্জন করা তো দূরে থাক, কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ব্রাত‍্য বসু নিজেও বামপন্থী ছিলেন। দফতরের মধ‍্যে মার্কামারা বামপন্থী শিক্ষকদের উচ্চপদে বসানো হয়েছে। তাই এই শিক্ষা দফতরের রাশ সঙ্ঘের ঘরের ছেলে, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ই সামলাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য শপথ নিয়েছিলেন ১ জুন, লোক ভবনে। তার পর এই ক’দিনে তাঁদের কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে সে ব্যাপারে বিজেপির রাজ‍্য সভাপতি এবং রাজ্য বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের মতামত জেনেছে দিল্লি। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপি এবং আরএসএস-এর মধ্যে প্রধান সমন্বয়ক যিনি, সেই অরুণ কুমারের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাঁদের মতামত মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


Share