Weather Update

পুজোর প্রস্তুতির মাঝেই বৃষ্টির ভ্রুকুটি, শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, রাজ্য জুড়ে ঝড় হওয়ার সাথে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বাড়তে পারে বৃষ্টির দাপট।

বৃষ্টির পূর্বাভাস
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩২

উৎসবের মরসুম একেবারে দোরগোড়ায়। কেনাকাটা থেকে প্যান্ডেল তৈরির কাজ—পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই আবহাওয়ার চোখরাঙানি। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এরপর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবেই মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃষ্টির দাপট বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রপাতের সতর্কতার পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর আরও কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির দাপট আর্টে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরের পাশাপাশি বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতির মাঝেই ফের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কলকাতাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। টানা বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

এদিকে সমুদ্রও আপাতত উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আপাতত ঘূর্ণিঝড়ের কোনও পূর্বাভাস নেই বলে জানিয়েছে আইএমডি। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ আগামী দিনে কতটা শক্তি সঞ্চয় করে, তার উপরই নির্ভর করবে রাজ্যে বৃষ্টির দাপট কতটা বাড়ে।


Share