Supreme Court

সীমান্তের বিষয়ে হালকা ভাবে নেওয়া চলবে না, গরু পাচার মামলায় বিএসএফ জওয়ানের শাস্তি বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

প্রাথমিক শুনানি এবং প্রমাণ সংগ্রহের পরে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ভগীরথের মামলা ওঠে। ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪০ নম্বর ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কোর্ট ভগীরথকে ছ’মাসের কারাদণ্ড দেয়। চাকরি থেকেও বরখাস্ত করে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:১২

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরুপাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক সাব-ইনস্পেক্টরকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল জেনারেল সিকিউরিটি কোর্ট। সেই রায় বহাল রাখল দেশের শীর্ষ আদালত।

এই মামলায় বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা এতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সীমান্ত রক্ষাকারী আধিকারিকের কোনও ভুল এতটা হালকা ভাবে নেওয়া যায় না। সেই কারণেই ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪৮(১)(সি) ধারায় দোষীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

ভগীরথ চৌধুরী নামে এক বিএসএফ জওয়ান ৩৬ বছর ধরে কাজ করেছেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৬ নম্বর গেটে পোস্ট কমান্ডার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে গরুপাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে সেই অভিযোগ উঠেছিল। এক জন দোষ স্বীকারও করেছিলেন। তবে সেখান থেকে বেআইনি ভাবে পাচার হওয়া কোনও গরু মেলেনি। এই অভিযোগের কোনও প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন না।

প্রাথমিক শুনানি এবং প্রমাণ সংগ্রহের পরে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে ভগীরথের মামলা ওঠে। ১৯৬৮ সালের বিএসএফ আইনের ৪০ নম্বর ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কোর্ট ভগীরথকে ছ’মাসের কারাদণ্ড দেয়। চাকরি থেকেও বরখাস্ত করে।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ভগীরথ। তাঁর আইনজীবী জানান, গরুপাচারে মদতের অভিযোগে যে প্রমাণ উঠে এসেছিল, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যে স্বীকারোক্তি মিলেছে, তা-ও জোরপূর্বক। তাঁকে অন্যায় ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন। তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ দিন তিনি কাজ করেছেন। সেখানে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া বাড়াবাড়ি। যদিও দিল্লি হাই কোর্ট ভগীরথের আবেদন খারিজ করে।

এর পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ভগীরথ। তিনি জানান, তাঁকে পেনশন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেটা অন্যায়। বিএসএফের তরফে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করে জানানো হয়, জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টে দোষীকে সওয়াল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ নেই।

সুপ্রিম কোর্ট এর পরে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের রায় বহাল রাখে। পর্যবেক্ষণে জানায়, সীমান্তরক্ষী বাহিনী চাইলে একাধিক শাস্তি দিতে পারে। এমনকী, চাকরি থেকে বরখাস্তও করতে পারে। ভগীরথের পেনশনের দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ১৯৮০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে চার বার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ওই বিএসএফ জওয়ান। প্রথম বার যখন দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তখন ১০ দিন জেলে ছিলেন তিনি। পরে দু’বারও কড়া শাস্তি পেয়েছিলেন। চতুর্থ বার গরুপাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে তিনি যেহেতু ৩৬ বছর কাজ করেছেন, তাই তাঁকে পেনশনের জন্য নিবেদন বা ‘রিপ্রেজেন্টেশন’ জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। তা বলে তাঁকে পেনশন দেওয়া হবে কি না, সেই নিয়ে তারা কোনও নির্দেশ দিচ্ছে না। এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


Share