Airport Rename

জেওয়ার বিমানবন্দরের নাম বদলের প্রস্তাব, নতুন নাম ‘নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’

শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

যোগী আদিত্যনাথ ও নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তরপ্রদেশ
  • শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:১১

উত্তরপ্রদেশের নয়ডার জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম বদলের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিমানবন্দরটির নতুন নাম হতে চলেছে ‘নরেন্দ্র মোদী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নয়ডা-জেওয়ার’। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, জেওয়ারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞ উত্তরপ্রদেশ সরকার। তাঁর কথায়, এই বিমানবন্দর আগামী দিনে শুধু উত্তরপ্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হিসেবেই নয়, গোটা দেশের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় গৃহীত হলেও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ১৫ জুন লখনউ থেকে ইন্ডিগোর একটি বিমান সেখানে পৌঁছয়। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরটিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের সূচনা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জুরিখ এয়ারপোর্ট ইন্টারন্যাশনালের সহযোগী সংস্থা যমুনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের মনোনীত সংস্থা নয়ডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এই বিমানবন্দর। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণে প্রায় ১১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ যাত্রী পরিবহণের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় ৭ কোটি যাত্রীতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমানবন্দরটিতে রয়েছে ৩,৯০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে, যা বড় আকারের ওয়াইড-বডি বিমান ওঠানামার উপযোগী। পাশাপাশি, উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা, আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস)-এর মতো প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে। রানওয়ের দুই প্রান্তে আইএলএস থাকায় আবহাওয়া ও বাতাসের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

বিমানবন্দরটিকে বহুমুখী পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বিমান পরিষেবার পাশাপাশি সড়ক ও অন্যান্য গণপরিবহণের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। যাত্রী পরিষেবা, নিরাপত্তা এবং সাইবার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় জেওয়ার বিমানবন্দরকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার প্রস্তাবটি কার্যকর করতে পরবর্তী কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


Share