School Service Commission

এসএসসি মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, বয়সে ছাড় নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত

এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। বয়সে ছাড় সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ। ২০১৬-র পরীক্ষায় যোগ্য হলেও নির্বাচিত না হলে নতুন নিয়োগে বয়সে ছাড় মিলবে না।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:১০

স্কুল সার্ভিস কমিশনের সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বয়সে ছাড় সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের একটি রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যোগ্য হয়েও যাঁরা নির্বাচিত হননি, তাঁরা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বয়সে ছাড় পাবেন না। যোগ্য ও আনসিলেক্টেড প্রার্থীদের বয়সে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায়ের উপরই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ আদালত আগেই জানিয়েছিল, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত নন বা ‘আনটেইন্টেড’, তাঁদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সে ছাড় দেওয়ার কথা। তবে সেই নির্দেশের ব্যাখ্যা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীদের দাবি ছিল, তাঁরা ২০১৬ সালের নিয়োগপর্বে অংশ নেননি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও নেই। তাই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে বয়সে ছাড় পাওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

গত ডিসেম্বরে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, এসএসসি আনটেইন্টেড প্রার্থীদের কোনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করায় যাঁদের নাম দাগিদের তালিকায় নেই, তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। এমনকি যাঁরা ২০১৬ সালের নিয়োগে সুযোগ পাননি, তাঁদেরও এই ছাড়ের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে এই সিদ্ধান্তেই আপত্তি তোলে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন, কিন্তু প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় পাবেন। কিন্তু যাঁরা যোগ্য অথচ ওই পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ের কথা বলা হয়নি। সেই কারণেই হাই কোর্টের বয়স সংক্রান্ত ছাড়ের রায়ে স্থগিতদেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত।

এ দিন শুনানিতে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন। দু-একদিনের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে। মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী হাই কোর্টের রায় ও সুপ্রিম কোর্টের পুরোনো রায় ব্যাখ্যা করে বোঝাতে চান, কোন যুক্তিতে যোগ্য, বঞ্চিত, সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরাও ছাড় পাওয়ার যোগ্য।

তা শুনে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, আদালত কখনও বলেনি, যোগ্য অথচ সুযোগ না পাওয়াদেরও ছাড় দিতে হবে। সেই কারণেই হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি হবে মার্চ মাসে। আদালতের নির্দেশের পরও সওয়াল চালিয়ে যেতে চান আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর আচরণে বিরক্ত আদালত তাঁকে ভর্ৎসনা করে শৃঙ্খলা রক্ষা করার বার্তা দেয়। 


Share