Supreme Court

‘অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলবেন না’, এসআইআর শুনানিতে কমিশনের দফতরে বিপুল ফর্ম ৬ প্রশ্ন তুলতেই মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

সুপ্রিম কোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?”

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৫২

সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে বুধবার নতুন করে উঠে এল নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৬ উদ্ধারের প্রসঙ্গ। শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে একসঙ্গে প্রচুর ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখনও ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও, এই পর্যায়ে এত বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম-৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?”

প্রধান বিচারপতি তখন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলবেন না।”

সেক্ষেত্রে কমিশনের আইনজীবী দামাশেষাদ্রী নাইডু বলেন, “নিয়মে বলা হয়েছে মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে। এমনকী, যাঁর আজ ১৮ বছর বয়স হচ্ছে, তিনিও আবেদন করতে পারেন। কারোর অধিকার এক্ষেত্রে আটকানো যায় না।”

আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন উল্লেখ করে বলেন, “কিন্তু এ ক্ষেত্রে হাজার হাজার ফর্ম একসঙ্গে জমা পড়ছে।” কথার রেশ টেনেই আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন ব্যক্তি ছ’হাজার ফর্ম জমা দিয়েছেন।”

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, “আপনারা অভিযোগ তুলতে পারেন কিন্তু এ ধরনের ঘটনা নজির আছে।” পরিস্থিতির কথা বুঝিয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “সমস্যা হল কারা আবেদন করছেন,  তা আমাদের জানার কোন সুযোগ নেই।” আইনজীবী কল্যাণ বলেন, “কাদের আবেদন জমা পড়ছে তা বুথওয়াড়ি প্রকাশ করা হোক। সেক্ষেত্রে কোনও অভিযোগ থাকলে, আমরা তা দায়ের করতে পারব।”

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এক্ষেত্রে যে দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নাম তোলার শেষ দিন বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, সেই দিনের মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁরা থাকবেন। বাকিদের নাম ভোটার তালিকায় উঠতে পারে কিন্তু তারা ভোটাধিকার পাবেন না।”

মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “আমাদের কাছে যা তথ্য আছে সেই অনুযায়ী ৫০ শতাংশের নাম যুক্ত হচ্ছে। ৪৫ শতাংশের নাম বাদ যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত হাই রেট।”

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে সিইও দফতরের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফর্ম-৬ নিয়ে দুই দলের মধ্যে ধস্তাধস্তি তৈরী হয়। তৃণমূল কর্মীরা বিজেপি কর্মীদের মারধর করেন। পাল্টা তৃণমূল সমর্থকদের বাইক ফেলে দেওয়া হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে বহিরাগতদের এনে ঢোকাচ্ছে। বাংলার ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করা হচ্ছে।


Share