Assembly Election

‘কাছা’ পরেই ভোটের দায়িত্বে, প্রশাসনের মানবিকতায় ছুটি পেলেন কর্মী

মায়ের ঘাটের কাজ করার জন্য ব্যান্ডেল স্টেশন পর্যন্ত গাড়ির ব্যবস্থা ও হাতে ফলের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। কর্তব্যনিষ্ঠার পাশাপাশি প্রশাসনের মানবিক মুখও এই ঘটনায় সামনে এসেছে।

ভোট কর্মী জিতেন্দ্রনাথ গড়াই
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া
  • শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪০

মাতৃবিয়োগের শোক এখনও কাটেনি। কিন্তু দায়িত্ববোধের কাছে ব্যক্তিগত বেদনা যেন কিছুটা আড়ালেই ছিল। তাই ভোটের ডিউটি এড়াননি জিতেন্দ্রনাথ গড়াই। 'কাছা' পরেই দায়িত্ব পালনে অব্যাহত ছেলে। তবে তাঁর পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে মানবিকতার নজির গড়ল প্রশাসন।

প্রায় ১৪ দিন আগে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির বাসিন্দা জিতেন্দ্রনাথ গড়াই মাকে হারিয়েছেন। তবুও বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় তিনি রানিবাঁধে দায়িত্ব পালন করেন। দ্বিতীয় দফাতেও তাঁর ডিউটি পড়ে হুগলির চুঁচুড়ায়। যার জন্য মঙ্গলবার তিনি চুঁচুড়ায় পৌঁছোন। ডিভিসির কর্মী জিতেন্দ্রনাথ। দায়িত্ব রক্ষার্থে তিনি ‘কাছা’ পরেই কাজে যোগ দিতে আসেন। হুগলি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজের ডিসিআরসিতে তাঁর ডিউটি ছিল।

সেখানে প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন। এরপর আর দেরি না করে তাঁকে ভোটের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এমনকি বাড়ি ফিরে মায়ের ঘাটের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ব্যান্ডেল স্টেশন পর্যন্ত তাঁর জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।চুঁচুড়া মহকুমা শাসক মধুশ্রী তাঁর হাতে একটি ফলের প্যাকেট তুলে দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি, এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার জন্য জিতেন্দ্রনাথের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। জিতেন্দ্রনাথ গড়াই নিজেও জানিয়েছেন, বুধবার তাঁর মায়ের ঘাটের কাজ রয়েছে। সময়মতো তিনি বাড়ি ফিরতে পারছেন। এটাই তাঁর কাছে বড় স্বস্তি। ব্যক্তিগত শোক আর দায়িত্বের টানাপোড়েনের এই ঘটনায় একদিকে যেমন উঠে এসেছে এক কর্মীর কর্তব্যনিষ্ঠা। তেমনই অন্যদিকে প্রশাসনের মানবিক মুখও ধরা পড়েছে।


Share