Assembly Election

ভোটে নজরদারিতে বাড়াতে প্রযুক্তি ব‍্যবহার, ‘স্ট্রাভা অ্যাপ’-এ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর নজর রাখবে নির্বাচন কমিশন

জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশই এই ধরনের রুট মার্চগুলির জন্য ‘স্ট্রাভা অ্যাপ’ এর মাধ্যমে রুট ফিডব্যাক সিস্টেম চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই অ্যাপ চালু হলে রুট মার্চের সময় বাহিনী কোন রাস্তা দিয়ে কোথায় যাবে তা রেকর্ড হয়ে যাবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১২:০৮

প্রত্যেক পাঁচ বছর অন্তর বিধানসভা নির্বাচন হয়। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ হয়ে থাকে৷ কিন্তু এ বার এই রুট মার্চও প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গিয়েছে। যা আগে কখনও হয়নি বলেও দাবি করেছেন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারীকেরা।

প্রত্যেক বারই ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অভিযোগ ওঠে, শাসক দলের সুবিধে করে দিতেই ঠিক যেখানে সমস্যা বা গন্ডগোল, ইচ্ছে করেই রাজ্য পুলিশ সেই পথে বাহিনীকে নিয়ে যায় না। ভিন রাজ্য থেকে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর অফিসারেরা শহর-গ্রামের অলিগলি চেনেন না। তাঁদের রাজ্য পুলিশের উপরেই ভরসা করে থাকতে হয়। এই সমস্যা দূর করতেই এ বার রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য ‘স্ট্রাভা অ্যাপ’ চালু হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভোটের আগে এবং ভোটের দিন বাহিনী রুট মার্চ করে স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে চায়। এটি ‘কমিউনিটি বেসড মনিটরিং’ নামে পরিচিত। এই রুট মার্চের সময়ে শুধুমাত্র মূল রাস্তা নয়, লেন-সহ বাই লেনেও যাওয়া প্রয়োজন হয়ে থাকে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশই এই ধরনের রুট মার্চগুলির জন্য ‘স্ট্রাভা অ্যাপ’ এর মাধ্যমে রুট ফিডব্যাক সিস্টেম চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই অ্যাপ চালু হলে রুট মার্চের সময় বাহিনী কোন রাস্তা দিয়ে কোথায় যাবে তা রেকর্ড হয়ে যাবে। এই অ্যাপের ‘থ্রি ডি ভিউ’-য়ের মাধ্যমে তাদের এলাকাগুলির অলিগলি আরও ভালো করে বুঝতে সুবিধা হবে। কোথাও গন্ডগোল হচ্ছে এবং সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে যাওয়া হয়নি, তখন এই অ্যাপই বলে দেবে সেই অভিযোগ সত্য কি না। পুলিশ ও বাহিনী দু’পক্ষের কাছেই সেই অ্যাপে রেকর্ডেড তথ্য থাকবে।

কলকাতার পুলিশের দাবি, এই অ্যাপের মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরোও দৃঢ় হবে। জানা গিয়েছে, স্ট্রাভা অ্যাপ নিয়ে লালবাজারে বৈঠক করা হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ কর্তারাই এই অ্যাপ তৈরীর প্রস্তাব দেন। অশান্তির সময়ে প্রয়োজনে বাহিনীর লোকেশন রুট এবং অ্যাক্টিভিটিও শেয়ার করতে পারবে।

এর পাশাপাশি রাজ্যে এ বারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী তিনটি মনিটারিং সেল তৈরি করছে। এই ‘ইউনিফায়েড কন্ট্রোল রুম’, ‘কম্যান্ড কন্ট্রোল রুম’ এবং ‘সোশ্যাল মিডিয়া সেল’-এর জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২৪ জন পদস্থ কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ২৪ ঘণ্টা ওই তিনটি কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রাজ্যের পরিস্থিতির উপরে নজরে রাখবেন।

ভোটের আগে বা ভোট চলাকালীন কোথাও হিংসা, অশান্তি বা উত্তেজনার খবর পাওয়া মাত্রই মনিটরিং সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে পরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ কমিশনারেট, এসপি এবং ডিএম-দের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে ভোটের সময় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে কোনও বিভ্রান্তি না হয়।

সমাজ মাধ্যমের ভুয়ো খবর, উস্কানিমূলক পোস্ট বা গুজব ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও বিশেষভাবে নজরে রাখা হবে। ভোট ঘোষণার পর থেকেই কোথায় কত গ্রেপ্তারি হচ্ছে, কোথায় অস্ত্র বা বোমা উদ্ধার হচ্ছে, কোথায় অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এই সব তথ্য রিয়েল টাইমে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভোটের সময় সিআরপিএফ-এর পাশাপাশি বিএসএফ, সিআইএসএফ, এসএসবি এবং আইটিবিপি-এর মধ্যে সমন্বয় রেখে একটি যৌথ মনিটরিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।


Share