Election Commission

ছাপ্পা দিলেই জেল! দ্বিতীয় দফার ভোটে ঢেলে সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তা, ভুয়ো ভোট রুখতে একাধিক পদক্ষেপ কমিশনের

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো ভোট রুখতে একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এবার সরাসরি ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৪২

২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগেই ভুয়ো ভোট রুখতে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ছাপ্পা ভোট দিলে কোনও রকম রেহাই নেই, দোষ প্রমাণিত হলে হতে পারে এক বছরের কারাদণ্ড।

প্রতিবারই নির্বাচনের সময় শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোর করে ভুয়ো ভোট দেওয়ানোর অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, বহু ক্ষেত্রেই এই ধরনের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তবে এ বারের নির্বাচনে এই অভিযোগ ঠেকাতে আগেভাগেই কড়া পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো ভোট রুখতে একাধিক নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এবার সরাসরি ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। প্রথমে বিএলও এবং তাঁর সহকারী ভোটারের পার্ট নম্বর এবং পার্ট সিরিয়াল নম্বর যাচাই করবেন। সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে ভোটার পরিচয়পত্র। পাশাপাশি ভোটারের আঙুলে কালি রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলেই কেবল ভোটারকে লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে। এতে ভুয়ো ভোটারের প্রবেশ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু বুথের বাইরে নয়, বুথের ভিতরেও থাকবে কড়া নজরদারি। প্রতিটি কেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তিকে সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করবে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে এক বছরের জেলও হতে পারে।

এ ছাড়াও, ভোটারদের সুবিধার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব বুথে টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বয়স্ক ভোটারদের কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একতলায় বুথ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি বা ওয়েবকাস্টিং নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে, যা মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সেই ধারা বজায় রেখেই দ্বিতীয় দফার ভোটও নির্বিঘ্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, কমিশনের এই কড়া নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।


Share