Assembly Election

দ্বিতীয় দফার ভোটে ‘বিস্ট’ নামাল সিআরপিএফ, হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে কড়া নিরাপত্তা বলয়

দ্বিতীয় দফার আগে শনিবার নিজে রাস্তায় নেমে টহল দেন সিআরপিএফের ডিজি জিপি সিং। রবিবার তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে সাঁজোয়া বাহিনীর একটি ভিডিও পোস্ট করে বার্তা দেন ‘আমাদের শক্তি, দুষ্কৃতীদের যম।’

সাজোয়া গাড়ি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:২৮

প্রথম দফার ভোটে কার্যত সর্বত্র প্রশংসা কুড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। রক্তপাতহীন, হিংসামুক্ত এবং ছাপ্পার অভিযোগবিহীন ভোট আয়োজন করতে পারায় শাসক থেকে বিরোধী উভয় শিবিরের একাংশই কমিশনের ভূমিকা স্বীকার করেছে। তবে এ বার দ্বিতীয় দফা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কলকাতা-সমেত দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট, যার অধিকাংশই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ‘হাইভোল্টেজ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। ফলে প্রস্তুতিও অনেক বেশি কড়া।

এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিশেষ করে সিআরপিএফ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। দ্বিতীয় দফার আগে শনিবার নিজে রাস্তায় নেমে টহল দেন সিআরপিএফের ডিজি জিপি সিং। রবিবার তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে সাঁজোয়া বাহিনীর একটি ভিডিও পোস্ট করে বার্তা দেন ‘আমাদের শক্তি, দুষ্কৃতীদের যম।’

নিরাপত্তা জোরদার করতে এ বার ব্যবহার করা হচ্ছে সিআরপিএফের বিশেষ সাঁজোয়া যান ‘বিস্ট’। সাধারণ টহলদারি গাড়ির তুলনায় এই অত্যাধুনিক যান অনেক বেশি সুরক্ষিত এবং বিস্ফোরক প্রতিরোধে সক্ষম। দুর্গম এলাকা দিয়ে দ্রুত চলাচল এবং দ্রুত মোতায়েনের সুবিধা থাকায় অশান্তিপ্রবণ অঞ্চলে এটি বিশেষ কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত কাশ্মীর বা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় এই ধরনের যান দেখা যায়, ফলে বাংলার ভোটে এর ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব বুথ ও এলাকা স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ অভিযানে এই সাঁজোয়া যান ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রুট মার্চ, নাকা চেকিং, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি এবং রাতভর টহল জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই একাধিক জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। অতীতে ভোটকে ঘিরে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও হিংসার অভিযোগ সামনে আসায় এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন।

এদিকে ‘বিস্ট’ মোতায়েন ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিরোধীদের একাংশ মনে করছে, এই শক্তি-প্রদর্শন ভোটারদের আস্থা বাড়াবে। যদিও শাসকদলের বক্তব্য, ভোট মানেই গণতান্ত্রিক উৎসব এখানে যুদ্ধের আবহ তৈরি করার প্রয়োজন নেই।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার আগে বাংলার নিরাপত্তা চিত্র অনেকটাই বদলে গিয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, কড়া নজরদারি এবং তার মাঝেই সবার নজর কেড়েছে সাঁজোয়া যান ‘বিস্ট’। এখন দেখার, এই প্রস্তুতি ভোটের দিন কতটা কার্যকর হয় এবং প্রথম দফার মতোই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে কি না।


Share