Calcutta High Court

একাধিক শীর্ষ আধিকারিক অপসারণে বিতর্ক, কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে যাচ্ছে তৃণমূল

আদালতে কল্যাণের বক্তব্য, এর ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ছে। কমিশনের অপসারণের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সেই অনুমতি দেয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই মামলার শুনানি হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ০৫:৪৮

রাজ্যের একের পর এক শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মধ্যে অনেককেই নির্বাচনী দায়িত্বে অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। এ বার সেই বিষয়েই কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল। মামলাকারীর পক্ষে আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এ ভাবে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার নেই নির্বাচন কমিশনের।

পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূলপন্থী আইনজীবী অর্ক নাগ জনস্বার্থ মামলা করতে চান। আদালতে কল্যাণের বক্তব্য, এর ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব পড়ছে। কমিশনের অপসারণের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ সেই অনুমতি দেয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই মামলার শুনানি হবে।

রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রশাসনিক রদবদল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চলেছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু জেলার জেলাশাসককেও বদলি করা হয়েছে। কমিশন শূন্যপদে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের আপাতত পশ্চিমবঙ্গে কোনও নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা যাবে না।

শুধু অপসারণই নয়, সরানো আধিকারিকদের অনেককেই ইতিমধ্যে অন্য রাজ্যে ভোটের কাজে পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে কমিশনের এই তৎপরতা নিয়ে তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। এবার সেই বিতর্ক আদালতের দরজায় পৌঁছল।


Share