Assembly Election

‘১১০-এর বেশি আসন পাবে বিজেপি,’ সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

‘অঙ্গ,বঙ্গ এবং কলিঙ্গ’ বিজেপির সরকার রয়েছে। পূর্ব ভারতের বাকি রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী যে বিকাশ করেছেন, সেই সূর্য এখানেও উদয় হবে বলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন।

সাংবাদিক বৈঠক করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩২

স্বাধীনতার পরে ‘রেকর্ড’ ভোটদান হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদান হয়েছে। এই ভোট গোটাটাই নাকি তৃণমূলের বিরুদ্ধেই পড়েছে। তাই প্রথম দফার নির্বাচনের পরে বিজেপিই যে সরকার গঠন করতে চলেছে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শহরে থাকবেন। শুক্রবার সকালে রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায়, নির্বাচনের পরে আমরা ১৫২টি আসনের বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছ থেকে রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের রায় প্রথম দফাতেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নে তাঁরা সামিল হয়েছেন। তিনি বলেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যাচ্ছে। বিজেপি আসছে।” শাহ বলেন, “প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টি-র বেশি আসনে আমরা আসছি। দ্বিতীয় দফার পরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করবে। এটা (রেকর্ড ভোটদানের হার) পরিবর্তনের ইঙ্গিত। জনতা যে রায় দিয়েছে, গতকাল ইভিএমের মধ‍্যে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”

প্রথম দফার নির্বাচন শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে আরও একদফা। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হবে আগামী ২৯ এপ্রিল। ওই দিন কলকাতার ১১টি আসন-সহ মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের কাছে সারা রাজ‍্যই কঠিন ছিল। আগে তিন জন বিধায়ক ছিল। এখন ৭৭টি। আমরা সরকার বানাই না। জনতা বিজেপির সরকার বানায়। আপনারাও বিজেপিকে ভোট দিন।” তাঁর দাবি, আগামী ৪ মে রাজ্যে নাকি ‘সুনামি’ আসতে চলেছে, তা তিনি দেখতে পাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, রাজ্যে যে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রয়েছে তা মহিলাদের সুরক্ষা একটি কারণ। সেটাই ভোটবাক্সের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

কলকাতায় কী বিজেপি খাতা খুলতে পারে, এই প্রশ্নে অমিত শাহ জানান, “কলকাতা এক সময় কংগ্রেসকে ভোট দিত। তার পরে সিপিএমকে ভোট দিয়েছে। গত কয়েক নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। এ বার তাঁরা বিজেপিকে দেবে। এখানে প্রতিষ্ঠিন বিরোধী হাওয়া চড়মে রয়েছে। আগের ভয় দেখিয়ে ভোট করাতে দেয়নি। এ বারে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশন ভয়মুক্ত করতে পেরেছে। তাই জনতার রায় আমাদের পক্ষেই যাবে। তিনি আরও বলেন, “তিন দিন ধরে প্রেসিডেন্সিতে ঘুরেছি। আমি দাবি করি বলতে পারি, এখানে উত্তরবঙ্গের থেকে বেশি ভোটদানের হার হবে। 

এ ছাড়াও, স্বাধীনতার পরে দেশের কোনও বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের শতাংশ নিয়ে তিনি বলেন, “রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। রাজ্যের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছে। পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন জানাই। দ্বিতীয় দফাতেও একই হবে। রাজ্যের পুলিশকেও অভিনন্দন। একটাও মৃত্যু হয়নি। চমৎকার হয়ে গিয়েছে।” ‘অঙ্গ,বঙ্গ এবং কলিঙ্গ’ বিজেপির সরকার রয়েছে। পূর্ব ভারতের বাকি রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী যে বিকাশ করেছেন, সেই সূর্য এখানেও উদয় হবে বলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন।


Share