Assembly Election

প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদানের হার, ‘অভুতপূর্ব’ নির্বাচন হয়েছে, সরকার গঠন করা নিয়ে আশাবাদী বিজেপি

বৃহস্পতিবার দেবজিৎ বলেন, “এসআইআররের পরে ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত বা বাংলাদেশি ভোটার নেই। মানুষ বাঁধন খুলে ভোট দিয়েছে। যেদিন ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে তা দেখে আপনারা চমকে যাবেন। তৃণমূল সরকার চলে গিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাতে ৪মে সিলমোহর পড়বে।”

সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির প্রতিনিধিরা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৬

বিধানসভা নির্বাচনের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার প্রায় ৯১ শতাংশ। বিজেপির দাবি, এমন নজিরবিহীন নির্বাচন আগে কখনও মানুষ দেখেননি। এই বিপুল সংখ্যক ভোটদানের হার থেকে তাঁরা মনে করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আগামী ৪মে সেই সম্ভাবনাকে সত্যি করে আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়বে।

১৫২টি আসনে ইতিমধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটদানের হার ৯১.৪০ শতাংশ। ১৬টি জেলায় নির্বাচন হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের ভোটদানের হার সবচেয়ে বেশি। সেখানে ভোট পড়েছে ৯৪.৭৭ শতাংশ। তার পরেই রয়েছে কোচবিহার। ওই জেলায় মোট ভোট পড়েছে ৯৪.৪০ শতাংশ। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে পুরুলিয়ায়। ওই জেলায় ভোট পড়েছে ৮৯.৪৪ শতাংশ।

আর এই ‘রেকর্ড’ ভোটদানের হার নিয়ে কার্যত আশাবাদী বিজেপি। রাজ‍্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এতদিন রাজ্যের মানুষ যে নির্বাচন দেখেছে, এ বারের নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষ বাধাহীন ভাবে ভোট দিতে এসেছে। রেকর্ড সংখ্যায় ভোট পড়েছে।” 

এ দিন সকাল থেকে ভোট নিয়ে কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক ভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ বলেই দাবি করছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দেবজিৎ বলেন, “তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিজেপির প্রার্থী বা এজেন্টদের মারধর করেছে। যেখানেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে গণপ্রতিরোধ হয়েছে। গুটিকয়েক জায়গা ছাড়া সর্বত্র মানুষ ভোট দিয়েছে। মানুষ তৃণমূলকে রুখে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তার জন্য অভিনন্দন জানাই। সাধারণ মানুষ তৃণমূলের অপশাসনকে রুখে দিয়েছে। তৃণমূল অনেক জায়গাতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মানুষ রুখে দিয়েছে।”

বিজেপির তরফে দেবজিতের বক্তব্য, ১৫২টি আসনে ‘অভূতপূর্ব’ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে নেই। বিজেপি আসছে। বিপুল জনসমর্থন নিয়েই দল ক্ষমতায় আসছে। তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত হতে চলেছে। ৯৯ শতাংশ বুথে কোনও সন্ত্রাস হয়নি। যেটা হয়েছে সেটা তৃণমূলের হতাশা থেকে। 

অতীতের নির্বাচন নিয়ে ব‍্যখ‍্যা করতে গিয়ে দেবজিৎ বলেন, “২০১১ সালেও এটাই হয়েছিল। সিপিএমের অপশাসন থেকে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ সামিল হয়েছিলেন। এ বারও তাই ভোট হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বেও একই ভোট হবে তা আমরা নিশ্চিত।”

বৃহস্পতিবার দেবজিৎ আরও বলেন, “এসআইআররের পরে ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত বা বাংলাদেশি ভোটার নেই। মানুষ বাঁধন খুলে ভোট দিয়েছে। যেদিন ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে তা দেখে আপনারা চমকে যাবেন। তৃণমূল সরকার চলে গিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাতে ৪মে সিলমোহর পড়বে।”


Share