ED Raid

বালিগঞ্জের সোনা পাপ্পুর বাড়িতে ইডির অভিযান! জমি দখলে বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলায় কলকাতা-সহ ১০ জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান

গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় অশান্ত হয়ে উঠেছিল গোলপার্কের কাছে কাঁকুলিয়া রোড। বোমা-গুলি-ভাঙচুর থেকে বেলাগাম তাণ্ডব, বাদ কিছুই যায়নি। ওই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে লাইভ করলেও, অন্যতম মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে এখনও ছুঁতে পারেনি পুলিশ।

সোনা পাপ্পুর বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৭

বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবার সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকালে থেকে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে। কসবার তৃণমূল নেতা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বালিগঞ্জের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ১০টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডির আধিকারিকেরা।

ইডি সূত্রের খবর, বেআইনি ভাবে জমি দখল করে তা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে যে ‘প্রোটেকশন মানি’ তোলা হয়েছে, তা সোনা পাপ্পুর ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের মাধ্যমে প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি এফআইআর একত্রিত করে অনুসন্ধান শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। ইসিআইআর দায়ের করে এ দিন সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে সেনা পাপ্পুর বালিগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন। যদিও সোনা পাপ্পু বাড়িতে নেই। তিনি বেশ কয়েক দিন ধরেই পলাতক।

গত শনিবার বালিগঞ্জের মণীশ ঝুনঝুনওয়ালা বলে এক নির্মাণ ব‍্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির আধিকারিকের যান। অভিযোগ, প্রকল্প তৈরী করার নাম করে বিভিন্ন জমি জাল কাগজ তৈরি করে দখল করা হয়েছে। তার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। ইডি সূত্রের এ-ও জানা গিয়েছে, সেই কাগজপত্র তৈরি হয়েছে কলকাতা পুরসভা থেকে। এর পরেই কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারকে ডেকে পাঠায় ইডি। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মেয়র পারিষদের নাম উঠে আসে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনি সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছিলেন।

এ ছাড়াও, বালিগঞ্জে ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ নামে এক সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চলছে। এই সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর কোনও যোগাযোগ আছে কি না তা স্পষ্ট করেনি ইডি সূত্রের। এক ইডি আধিকারিক জানিয়েছেন, “তল্লাশি চলছে। তদন্ত চলছে। এই বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।”

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় অশান্ত হয়ে উঠেছিল গোলপার্কের কাছে কাঁকুলিয়া রোড। বোমা-গুলি-ভাঙচুর থেকে বেলাগাম তাণ্ডব, বাদ কিছুই যায়নি। ওই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে লাইভ করলেও, অন্যতম মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে এখনও ছুঁতে পারেনি পুলিশ। বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু পুলিশের খাতায় ফেরার। কাঁকুলিয়ার ঘটনার পরে তাঁর সঙ্গে রাসবিহারীর তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমার এবং তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি সামনে এসেছিল।


Share