TMC

জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে ১৯৩ সাংসদের সই, লোকসভা-রাজ্যসভায় নোটিস দিল তৃণমূল

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবিতে তৃণমূল লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই নোটিস জমা দিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমার
অরুণিমা কর্মকার, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১১:৩১

বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দল ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরোও বাড়ল। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবিতে তৃণমূল লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষেই নোটিস জমা দিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘোষণার আগেই জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিল। বিশেষ করে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মু-র কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।

যদিও এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ সংবিধান অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে তৃণমূলের সংগৃহীত ১৯৩টি স্বাক্ষর সেই লক্ষ্যে যথেষ্ট নয়, ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করা বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে অনেকেই। ভোটমুখী বিভিন্ন রাজ্যের উদ্দেশ্যে তৃণমূল বোঝাতে চাইছে যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তারা আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। অতীতে কোনও রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক দল এভাবে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি তোলে নি।

এদিকে, তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার গুরুত্বহীন বলেই মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “প্রস্তাব আসবে, প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাবে। ওদের সমর্থন নেই। বিরোধীরা, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে যেভাবে হোক, নির্বাচনে জিততে। ভোটাভুটি হলে প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাবে।”

সংবিধানের ৩২৪(৫) ধারায় বলা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ সম্ভব। বিচারপতিদের যে প্রক্রিয়ায় ইমপিচমেন্ট করা যায়, সেভাবেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও অপসারণ করা যায়। এর জন্য সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন।


Share