Election Commission

তিন লক্ষ ইভিএম ও দু’লক্ষ ক্যামেরায় মুড়ছে ভোট! ‘৩৬০ ডিগ্রি’ নজরদারি কীভাবে, জানালেন সিইও

আগে প্রতিটি বুথে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও এবার বুথের ভিতর ও বাইরে আলাদা করে ক্যামেরা বসানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বহু বুথে দু’টি করে ক্যামেরা লাগিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।

রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৯

স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ওয়েবকাস্টিং, সিসিটিভি নজরদারি এবং ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।

তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এ বার শুধু বুথের ভেতর নয়, বুথের বাইরে সামান্য গোলমাল বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার ঘটনাকেও ‘বুথ ক্যাপচারিং’ হিসেবে ধরা হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগে প্রতিটি বুথে একটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকত। এ বারের নির্বাচনে বুথের ভিতর ও বাইরে আলাদা করে ক্যামেরা বসানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বহু বুথে দু’টি করে ক্যামেরা লাগিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের লক্ষ্য, ১০০ শতাংশ বুথকে ওয়েবকাস্টিংয়ের আওতায় আনা।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিস্তরীয় নজরদারি ব্যবস্থা রাখছে কমিশন। পুরো ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য তিন স্তরের ভাগ করে কন্ট্রোল ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের ঘরে স্থানীয় কন্ট্রোল রুম, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) দফতরে জেলা পর্যায়ের নজরদারি কেন্দ্র করা হবে। পাশাপাশি, সিইও দফতরে মূল কন্ট্রোল রুম থেকেও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে।

সিইও দফতরের কন্ট্রোল রুমে বসানো হয়েছে ৬৬০টি টিভি স্ক্রিন। প্রতিটি বড় স্ক্রিনে একসঙ্গে ১২টি বুথের লাইভ ফিড দেখা যাবে। নজরদারিতে থাকবেন দু'হাজার ৩৫২ জন মাইক্রো অবজার্ভার। ৯৬৫ জন অ‍্যাসিস্ট‍্যান্ট অবজার্ভার। পাশাপাশি ফ্লাইং স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিমের (কিউআরটি) গাড়িতেও থাকবে ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিং-এর ব্যবস্থা।

ইভিএম নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই তিন লক্ষ ইউনিটের প্রথম পর্যায়ের চেকিং সম্পন্ন হয়েছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট বহনকারী সব গাড়িতে থাকবে জিপিএস ট্র্যাকিং। শুধু ভোটগ্রহণ নয়, গণনাকেন্দ্রের লাইভ ফিডও সরাসরি পৌঁছোবে সিইও দফতরের কন্ট্রোল রুমে। প্রতিটি ক‍্যামেরায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর ব‍্যবহার করা হবে। রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কথায়, বুথে চার জন ভোট দেওয়ার জন্য প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু তার চেয়ে বেশি লোক ঢুকে পড়লে ক‍্যামেরাই তা সতর্ক করে দেবে।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বুথের ভিতরে গোলমাল না হলেও যদি বুথের বাইরে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয় বা ভোট দিতে আসতে না দেওয়া হয়, তবে সেটিকেও বুথ দখল হিসেবে গণ্য করা হবে।

সব মিলিয়ে, প্রায় দু'লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখার লক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।


Share