TMC Leader

সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ! তৃণমূল বিধায়কের আশ্রমে নোটিস, মাতলার চর দখল নিয়ে নতুন বিতর্ক

স্থানীয়দের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আশ্রমটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে ২২ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আবাসিক হিসেবে রয়েছেন।

ক্যানিংয়ে নদীর চরে গড়ে ওঠা ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’
নিজস্ব সংবাদদাতা, ক্যানিং
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ০৭:১৮

ক্যানিংয়ে নদীর চরে গড়ে ওঠা ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’কে ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধল। বিজেপির অভিযোগ, মাতলা নদীর চরের সরকারি জমি দখল করে বেআইনিভাবে এই বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে সেখানে রিসর্ট চালানো হচ্ছে এবং নানা বেআইনি কার্যকলাপও ঘটে বলে দাবি বিরোধী দলের। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ১৮ জুন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিতর্কিত এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শনিবার তাঁর ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’-এ নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আশ্রমটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে ২২ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা আবাসিক হিসেবে রয়েছেন। বিধায়কের বক্তব্য, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের আর্থিক সহায়তায় আশ্রমটি পরিচালিত হয়।

তবে বিজেপির অভিযোগ, বৃদ্ধাশ্রমের নামে প্রকৃতপক্ষে একটি ‘প্রমোদ ভবন’ তৈরি করা হয়েছে। কয়েক জন প্রবীণকে সামনে রেখে সেখানে অন্য ধরনের কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে বলে তাদের দাবি। পাশাপাশি মাতলা নদীর চর দখল করে আশ্রম নির্মাণের পাশাপাশি নদীর অপর পাড়ের চর এলাকার কিছু অংশ বিক্রির অভিযোগও তুলেছে বিজেপি।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরেশরাম দাস। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই আশ্রম নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি তাঁর কাছে রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিরোধীরা এই অভিযোগ তুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, আশ্রম গড়ার সময় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছিল এবং কোনও বেআইনি কাজ করা হয়নি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’ নয়, নদীর চরে গড়ে ওঠা অন্য কয়েকটি নির্মাণকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে আগামী ১৮ জুন শুনানিতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যানিং এলাকায় নদীর চর দখল সংক্রান্ত অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার পুত্র ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধেও মাতলা নদীর চর এলাকায় ম্যানগ্রোভ কেটে ক্যাফে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন তাঁদেরও নোটিস পাঠিয়েছিল। বর্তমানে অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন শওকত মোল্লা; ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় তিনি তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে আছেন।


Share