Suvendu Adhikari

‘বছরে ৩৬ হাজার টাকা, তাই কড়া যাচাই জরুরি’, অন্নপূর্ণা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে শুভেন্দুর বার্তা, ভুয়ো সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে সিট তদন্তের নির্দেশ

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে অনেক জালিয়াতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২২টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষেরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন। সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। আর তা আটকাতেই অন্নপূর্ণা যোজনায় এত কড়াকড়ি।’’

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১০:৪৭

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, কেন এত বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হচ্ছে? সেই জল্পনার জবাব দিতে সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে অনেক জালিয়াতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২২টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষেরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন। সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। আর তা আটকাতেই অন্নপূর্ণা যোজনায় এত কড়াকড়ি।’’ তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চিন্তা নেই। বৈধ সব ভোক্তাই টাকা পাবেন।’’

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইতিমধ্যেই ২২টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে পুরুষরাও লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাঁর মতে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘বৈধ উপভোক্তাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। সকল যোগ্য ভোক্তাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।’’

শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাঁর কথায়, ‘‘গত দু’-তিন ধরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি, কিছু মিথ্যা প্রচার যাঁরা চালিয়েছিলেন, এখন তাঁরা নিজেরাই ফর্ম ফিল আপের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আমরা এর আগে অফলাইনে চালু করেছিলাম। আজ থেকে অনলাইনেও চালু হয়ে গিয়েছে। ২০ জন আধিকারিক জেলায় জেলায় গিয়ে এই কাজ নজরদারি করছেন। আমরা আশা করছি, বুধবার বড় সংখ্যায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে শুরু করব।’’

কেন বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন। এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে তদন্ত শুরু হয় এবং আরও কয়েকটি অনিয়মের সন্ধান মেলে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দুর অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং বহু অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘যারা ভুয়ো উপায়ে সরকারি প্রকল্পের টাকা তুলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজিপিকে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ভুয়ো উপভোক্তাদের মাধ্যমে অন্তত ৩০ লক্ষ টাকার আর্থিক অনিয়ম হচ্ছিল। প্রশাসনের লক্ষ্য, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৃণমূল স্তর থেকে এই ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করা।

রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে শুভেন্দুর আবেদন, সরকারি প্রকল্পের অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে সঠিক যাচাই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার। তাঁর বক্তব্য, বছরে ৩৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, ফলে উপভোক্তাদের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাই করাটা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।


Share