Mamata Banerjee

মূল গেটে ঝুলছে তালা, কালীঘাটের মমতার বাড়ির পুলিশ কিয়স্ক ফাঁকা, আবার বিতর্ক শুরু

জানা গিয়েছে, মমতার বাড়িতে বিগত ২০ বছর ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএসও হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের বুধবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএসও-দের দেওয়া হল অব‍্যাহতি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১১:১২

মূল গেটে বুলছে তালা। নেই কোনও নিরাপত্তারক্ষী। জানা গিয়েছে, সেখানে কর্মরত ব‍্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের অব‍্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিগত ২০ বছর ধরে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব‍্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পুলিশ সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, কয়েক জনকে ব‍্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব দিয়ে কালীঘাটে পাঠানো হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের নিতেও অস্বীকার করেছেন। 

পালাবদল হয়েছে। ২০৮টি আসনে জিতে বিজেপি রাজ‍্যে ক্ষমতায় এসেছে। তার পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলি থেকে গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বিক্ষোভের আশঙ্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বহাল ছিল। পুলিশকর্মীরা কিয়স্কে থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যার পর ছবিটা বদলে গেল। আপাতত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে নেই কোনও পুলিশি নিরাপত্তা। কিয়স্কও পুরোপুরি ফাঁকা। পুলিশের বদলে দু’জন বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীকে তৃণমূলের তরফে মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মমতার বাড়িতে বিগত ২০ বছর ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  পিএসও হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের বুধবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, পিএসও-র দায়িত্ব দিয়ে চার-পাঁচ জনকে পাঠানো হলেও তাঁদেরকে নিতে মমতা চাননি। ফিরিয় দেন তিনি। ফলে বুধবার রাতে থেকে পুলিশের কিয়স্ক পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। রাতে সেখানে কোনও পুলিশ থাকছে না বলেই জানা গিয়েছে। 

বুধবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায় ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। পরে তিনি বেরিয়ে এসে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সাংসদ ছিলেন, সেই সময় থেকে কয়েক জন পিএসও নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিলেন। তাঁদের সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিশের তরফে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর যাঁদের পাঠানো হয়, তাঁদের মমতা চেনেন না। 

ডেরেক বলেন, “রাত সাড়ে ৯টায় কয়েক জন অচেনা অফিসারকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল।” আপাতত মমতার বাড়িতে কোনও রকমের পুলিশি নিরাপত্তা রইল না বলে জানিয়েছেন ডেরেক। তিনি বলেন, “আমরা দু’জন নিরাপত্তারক্ষী রেখেছি।” এরপর মেইন গেটে তালা দিয়ে বেরতে দেখা যায় ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। সিসি ক্যামেরা সাদা টেপ দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী একটি বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যাতে কোনও গাফিলতি না হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান যাতে বজায় থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার কথাও বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।


Share