Calcutta High Court

‘ট্রাবল মেকার’ তকমায় গ্রেফতার নয়, নির্বাচনের আগে কড়া বার্তা কলকাতা হাই কোর্টের

আদালতের মন্তব্য, শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতা খর্ব করা যায় না। অপরাধ করলে আইন মেনেই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু আগাম আটক করতেও নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ বাধ্যতামূলক।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪৩

গোলমাল সৃষ্টির আশঙ্কায় কাউকে ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে নির্বিচারে গ্রেফতার করা যাবে না এমনটাই স্পষ্ট নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত জানায়, সতর্কতামূলক আটক করতেও হলে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানতেই হবে। নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের কোনও ঢালাও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তার উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। অন্য কোনও আইন থাকলে, সেই আইনের অধীনেই কাজ করতে হবে। আদালতের মন্তব্য, শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে নাগরিকের স্বাধীনতা খর্ব করা যায় না। অপরাধ করলে আইন মেনেই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে, কিন্তু আগাম আটক করতেও নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ বাধ্যতামূলক।

এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, তাদের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই আশঙ্কার ভিত্তিতেই তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন কোন ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ‘ট্রাবল মেকার’ বলা হচ্ছে এবং কেন সেই নাম প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে।

রাজ্যের পক্ষ থেকেও আদালতে জানানো হয়, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি নেই যেখানে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্যের আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, ‘ট্রাবল মেকার’ শব্দটি কোনও আইনগত পরিভাষা নয় এবং দণ্ডবিধি বা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে এর উল্লেখ নেই। তিনি আরও যুক্তি দেন, প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন শুধুমাত্র রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা অখণ্ডতা বিপন্ন হলে প্রয়োগ করা যায়, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই আইনের মধ্যে থেকেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে হলফনামা দিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথাও জানানো হয়। পাশাপাশি, অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নজির তুলে ধরে কমিশন জানায়, কোনও রাজ্যের ক্ষেত্রে আলাদা নীতি অনুসরণ করা হয় না।


Share