High Court

আইনের ওপরে প্রশাসনির নির্দেশ নয়! জাতি শংসাপত্র যাচাইয়ের সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট

সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরেই ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র বিলি করা হয়েছিল তা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, আইন মেনে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৪:০০

জাতিগত শংসাপত্র যাচাইয়ের রাজ‍্য সরকারের সিদ্ধান্তের স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। গত ১৪ মে এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ‍্য সরকার। বলা হয়েছিল, গত ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তপশিলি জাতি, উপজাতি এবং অন‍্য অনগ্রসর শ্রেণির যত শংসাপত্র রয়েছে, তা পুনরায় যাচাই করা হবে। যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয় তা বাতিল করা হবে।

মঙ্গলবার রাজ‍্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানি হয়েছে। হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানি হয়েছে। পূর্বতন সরকারের সময় থেকেই জাতিগত শংসাপত্র নিতে জটিলতা চলছে। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরেই ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র বিলি করা হয়েছিল তা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, আইন মেনে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সরকার মনে করেছে, এই সময়ের মধ্যে যে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, তাতে গড়মিল থাকতে পারে। মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ, রাজ‍্য সরকার এ ভাবে প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে এত শংসাপত্র এক সাথে বাতিল করতে পারে না। এক সাথে এত শংসাপত্র যাচাই শুরু করলে সমাজে অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। তাঁর এ-ও বক্তব্য, আইনসম্মত উপায়ে অথবা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে তাতে কোনও আপত্তি নেই। প্রশাসনিক নির্দেশে এ ধরনের পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়েই মামলাকারীর মূল আপত্তি বলে দাবি করা হয়।

জবাবে রাজ‍্যের অ‍্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎকুমার মিত্র জানান, রাজ‍্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। ভুয়ো ভোটার কার্ড ব‍্যবহার করে এই শংসাপত্র তৈরি করা হলে তা খতিয়ে দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে। প‍্যান কার্ডের মতো এমন কোনও নথি ব‍্যবহার করা হলে তাতে কোনও সমস্যা নেই।

উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্ত্তীর ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সাব-ডিভিশনাল অফিসারদের কোনও একটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই সামগ্রিক নির্দেশ জারি হয়েছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী শংসাপত্র বাতিল বা প্রত্যাহার করা যায়। প্রশাসনিক নির্দেশ আইনের বাইরে গিয়ে নতুন কোনও ভিত্তি তৈরি করা যায় না। আদালত জানিয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতিগত শংসাপত্র স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল হয়ে যাবে—আইনে এমন কোনও বিধান নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। তার পরেই স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাই কোর্ট।


Share