Suvendu Adhikari

দুর্গাপুজোর আগেই বনকর্মীদের জন্য বড় সুখবর! রেঞ্জার-বিট অফিসার-ফরেস্ট গার্ডের বেতন বাড়ছে পাঁচ হাজার, বন সহায়কদের ভাতা ১২ হাজার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

অন্য দিকে, রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় এক হাজার ৫০০ জন বন সহায়কের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এত দিন তাঁরা মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। অক্টোবর থেকে সেই ভাতা দু'হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৪৬

রাজ্য বনদফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের জন্য দুর্গাপুজোর আগে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী অক্টোবর মাস, অর্থাৎ দুর্গাপুজোর মরশুম থেকেই রাজ্য সরকার রেঞ্জার, বিট অফিসার, ফরেস্ট গার্ড এবং বন সহায়কদের বেতন ও ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজ্যে কর্মরত প্রায় ৫০০ জন রেঞ্জারের মাসিক বেতন পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে। একই ভাবে, প্রায় ৫০০ জন বিট অফিসারের বেতনও অক্টোবর থেকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি পাবে। বনদফতরের প্রায় ৬৫০ জন ফরেস্ট গার্ডের ক্ষেত্রেও মাসিক বেতন পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য দিকে, রাজ্যজুড়ে কর্মরত প্রায় এক হাজার ৫০০ জন বন সহায়কের ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এত দিন তাঁরা মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পেতেন। অক্টোবর থেকে সেই ভাতা দু'হাজার টাকা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হবে।

বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় দিনরাত কাজ করে যাওয়া কর্মীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সুখবর ঘোষণা করলেন। তিনি জানান, আগামী অক্টোবরের দুর্গাপুজো থেকেই বনকর্মীদের জন্য বর্ধিত বেতন ও ভাতার নতুন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

মঙ্গলবার ‘সবুজ স্বাধীনতা দিবস’-এর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। জাতীয় সুরক্ষা, সাংবিধানিক কর্তব্য, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, শিল্প ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে চলতি বর্ষার মরশুমে রাজ্যে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।

রাজ্যজুড়ে একযোগে প্রায় ৫০ লক্ষ চারাগাছ রোপণ করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর এর সিংহভাগ খরচ বহন করছে। ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ ব্যয়ের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যে সাত কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরে ১৪ জুলাই অরণ্য সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশে ২৬ কোটি বৃক্ষরোপণের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যাও ১০ কোটি পেরিয়ে ১১ কোটির দিকে এগোচ্ছে। তাই চলতি বর্ষাতেই সরকার রাজ্যে ১০ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাগানো গাছগুলির আগামী দু’বছর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

শহরাঞ্চলের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আকাশপথে হেলিকপ্টার বা বিমানে যাতায়াতের সময় বৃহত্তর কলকাতার দিকে তাকালেই সবুজের ঘাটতি স্পষ্ট বোঝা যায়। বিপরীতে নিউ টাউনের সবুজ পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি জানান, ‘সিটি অব জয়’ কলকাতার ফুসফুস রক্ষা করতে দ্রুত বৃক্ষরোপণ বাড়ানো জরুরি। আবাসন নির্মাতা সংস্থা ‘ক্রেডাই’ এবং বিল্ডারদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় মোট জায়গার দুই-তৃতীয়াংশ পরিকাঠামোর জন্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সবুজায়নের জন্য নির্দিষ্ট রাখতে হবে। নিয়ম না মেনে নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ করে এই নির্দেশ কঠোর ভাবে কার্যকর করারও তিনি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী একটি দেশীয় প্রজাতির লম্বা নারকেল গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি জানান, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় নারকেল ও সুপারি গাছ প্রাকৃতিক ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ হিসেবে কাজ করতে পারে। তাঁর সরকারের ১০১ দিনের মেয়াদেই রাজ্যে বজ্রপাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর কলকাতার ময়দানেও বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। শহরের একাধিক ভবনে নামমাত্র লাইটনিং অ্যারেস্টার থাকলেও সেগুলির অনেকগুলিই কার্যত নিষ্ক্রিয় বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি পুলিশ, দমকল, পিডব্লুডি এবং কলকাতা পুরসভাকে যৌথ ভাবে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উপকূলবর্তী এলাকায় বেপরোয়া বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং ম্যানগ্রোভ নিধন নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, গোসাবা, বাসন্তী থেকে টাকি ও সাগর বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ ও বন দফতরের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা। ম্যানগ্রোভের মতো প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ ধ্বংসের ফলেই আমফানের মতো ঘূর্ণিঝড়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা টানা তিন দিন বিদ্যুৎহীন ও কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওড়িশা থেকে উদ্ধারকারী দল আনতে হয়েছিল বলেও মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন।


Share