Mamata Banerjee

‘আমি বিচলিত’, কমিশনের জাতীয় ভোটার দিবস পালন প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে, মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর মমতার

এসআইআরকে নাগরিক জাতীয় পঞ্জি (এনআরসি) বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে।”

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪১

আবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন করার অধিকার নেই কমিশনের। এই দিনটিকে তাঁর ‘প্রহসন’ বলে মনে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মমতার  মতে, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে চলছে।

আজ জাতীয় ভোটার দিবস। এই দিনেই দেশের নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “নির্বাচন ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে।” এর পরেই তিনি লিখেছেন, “হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার— আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কমিশন এসআইআর করে মানুষের ওপর অত্যাচার করছে। তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে এবং বিধি-নিয়ম অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে নতুন-নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে।” এর পরেই তিনি বলেন, ”তাদের প্রভু বিজেপির হয়ে বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায়। ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়।” মমতার প্রশ্ন, ‘এদেরই আবার ভোটার দিবস উদযাপন করার সাহস হচ্ছে?’

মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেছেন, “আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন। আপনাদের অত্যাচারের ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০, ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছেন। শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন। তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে ও স্বার্থে।”

যদিও কত জন বিএলও-র মৃত‍্যু হয়েছে, তা নিয়ে ফের আরও একবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ‍্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, “বিএলও-দের মৃত্যু নিয়ে আমরা রিপোর্ট চেয়েছিলাম। কোনও রিপোর্ট আসেনি। এমনকী, ময়নাতদন্তের রিপোর্টও পাঠানো হয়নি। সরকারি ভাবে জেলাশাসক এবং পুলিশের এই রিপোর্ট দেওয়ার কাজ। এই বিষয়ে কমিশনকেও বলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা রয়েছে। এটা তো আমরা করতে পারি না। আমাদের কোনও ফান্ড নেই।’’

এসআইআরকে নাগরিক জাতীয় পঞ্জি (এনআরসি) বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে।” কমিশনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নির্বাচন হল গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু আপনাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কান্ডকারখানা, মাইক্রো অবজারভার প্রভৃতিদের দলে দলে পাঠিয়ে সেই নিগ্রহ বৃদ্ধি করেছেন। মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিণতি আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই।”


Share