Kolkata High Court

লিওনেল মেসি ও দিয়েগো মারাদোনার মূর্তি কি সরকারি জমিতেই বসানো হয়েছে? তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ‍্যকে রিপোর্ট দিতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট

গত ১৩ ডিসেম্বর মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে নৈরাজ‍্য সৃষ্টি হয়। মেসিকে দেখতে তাঁর ভক্তেরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সল্টলেক স্টেডিয়ামে যান। কিন্তু মেসি মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

লেকটাউনে বসান লিওনেল মেসির মূর্তি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৩

লেকটাউনে শুধু ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি নয়, দিয়েগো মারাদোনার মূর্তিও রয়েছে! এই মূর্তিগুলি কি সরকারি জমির উপর বসানো হয়েছে? প্রশ্ন উঠতেই রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। দমদম পুরসভা এবং রাজ্য সরকারকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ।

সম্প্রতি কলকাতার লেকটাউনে মেসির ৭০ ফুট দীর্ঘ মূর্তি বসানো হয়। মেসির কলকাতা সফরের সময় রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু ফুটবলের রাজপুত্র মেসির হাত দিয়েই সেই মূর্তি উন্মোচন করান। তবে সেই মূর্তি কার জমিতে বসানো হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। মামলাকারী স্বদেশ মজুমদারের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমন সরকারি জমিতে কোনও মূর্তি বসানো যায় না।

আদালতে মামলাকারী দাবি করেন, লেকটাউনে মেসি এবং মারাদোনার মূর্তিগুলি সরকারি জমিতে বসানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মামলাকারীর বক্তব্যের পরই প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ দমদম পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

২০১৭ সালে লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণে মারাদোনার মূর্তি উদ্বোধন হয়। গত বছর ডিসেম্বরের মেসির মূর্তি উন্মোচন হয় ওই লেকটাউনেই। এই বিষয়েই আদালত জানতে চায়, সরকারি জমিতে ওই মূর্তিগুলি বসানো হয়েছে কি না।

গত ১৩ ডিসেম্বর মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে নৈরাজ‍্য সৃষ্টি হয়। মেসিকে দেখতে তাঁর ভক্তেরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সল্টলেক স্টেডিয়ামে যান। কিন্তু মেসি মাত্র ১৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। অভিযোগ, এক মুহূর্তের জন্যেও গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখা যায়নি। এর পরেই ক্ষোভে জনতা স্টেডিয়াম জুড়ে তাণ্ডব চালায়। মাঠে ছোড়া হয় বোতল, ভাঙা চেয়ার। যুবভারতীকাণ্ড নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেও লেকটাউনে মেসির মূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।


Share