BJP Inner Clash

তোলাবাজি-সিন্ডিকেট নিয়ে উত্তপ্ত বিজেপির সভা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বচসা দলীয় বিধায়কের, আঙুল উচিঁয়ে কথা পীযূষ কানোরিয়ার

মঙ্গলবার নিজের বিধানসভা এলাকায় দমদম পার্কে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৮ ওয়ার্ডে বিধায়কের দরবার করেছিলে রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাত পৌনে ৮টা নাগাদ তিনি এলাকার মানুষের অভিযোগপত্রগুলি পড়ছিলেন।

(বাঁ দিক থেকে) স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:১৬

রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়র ‘বিধায়কের দরবার’-এ আচমকাই হাজির হন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। এর পরেই আঙুল উঁচিয়ে কার্যত গলার সুর চড়িয়ে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। মঙ্গলবার দমদম পার্কে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দুই বিধায়ক প্রকাশ্যে এ ভাবে তর্কে জড়িয়ে যাওয়ায় গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপি।

মঙ্গলবার নিজের বিধানসভা এলাকায় দমদম পার্কে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৮ ওয়ার্ডে বিধায়কের দরবার করেছিলে রাজ‍্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। রাত পৌনে ৮টা নাগাদ তিনি এলাকার মানুষের অভিযোগপত্রগুলি পড়ছিলেন। সেই সময় আচমকাই দলবল নিয়ে সভামঞ্চের সামনে হাজির হন রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। তিনি সেখানে এসে দর্শকের বসার আসনেই বসে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁকে বলেন, “আমাদের মধ্যে পার্শ্ববর্তী বিধানসভার বিধায়ক পীযূষ কানেরিয়া উপস্থিত হয়েছেন। পীযূষদা, আপনি মঞ্চে উঠে আসেন।” তখন পীযূষ বলেন, “আমি অন‍্য বিধানসভার বিধায়ক। তাই আপনি এটা বলতে পারেন না।”

স্বাস্থ‍্যমন্ত্রীর অনেক অনুরোধের পরে পীযূষ মঞ্চে উঠে মন্ত্রীর পাশের চেয়ারে বসেন। কিন্তু তাতেও যে পরিস্থিতির কোনও বদল হয়নি তা অনেকেই বুঝতে পারেন। সেখানে বসেই কয়েকটি চিঠি পড়তে থাকেন মন্ত্রী শারদ্বত। সব চিঠিই তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ নিয়ে অভিযোগ ছিল। জানা গিয়েছে, সবকটি চিঠিই বেনামে পাঠানো হয়েছিল। সে সমস্ত চিঠি পড়ার পরে শারদ্বত জানান, অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। এখন সরকার বদলে গিয়েছে। মানুষের নির্মাণসামগ্রী কেনার স্বাধীনতা রয়েছে। তাতে কারও কোনও প্রশ্ন থাকার কথাই নয়। কারও ভয় পাওয়ার দরকার নেই।

সভাশেষে তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ নিয়ে অভিযোগ নিয়ে নিজের হাতে মাইক্রোফোন তুলে নেন বিজেপি বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। ততক্ষণে পীযূষ মঞ্চ থেকে নেমে গিয়েছে। তিনি কার্যত আঙুল উঁচিয়ে শারদ্বতের উদ্দেশ্যে বলেন, “দমদম পার্কে অনেক ঘটনা আছে। লালকুঠি থেকে আমরা এত দিন যাদের ঢুকতে দিইনি, আবার তাদের রাজনৈতিক ভাবে কেন ঢোকানো হচ্ছে, সেটা আপনাকে (মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়) বলতে হবে।”

ওই বচসার মাঝেই পীযূষ ‘ভিখারি’ নামে একজনের কথা উল্লেখ করেন। পীযূষ বলেন, “আমাদের অফিসে মেশিন (বন্দুক-পিস্তল) নিয়ে ভয় দেখিয়েছিল। তাকে কেন আপনার পাশে বসা লোকেরা (এলাকায়) ঢোকাচ্ছে। তার কৈফিয়তও দিতে হবে।” পীযূষ আরও বলেন, “দমদম পার্ক বর্তমানে শান্ত আছে। সেটা যেন কোনও ভাবে অশান্ত না-করা হয় সেটা আপনি দেখুন। এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।”

তার পরেই পীযূষ বলেন, “এখানে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ইও (এগজিকিউটিভ অফিসার) ম্যাম বসে আছেন। একটা জায়গার ১৮টা লাইটের কন্ট্রাক্ট একটা লোক পেয়েছেন। কেন পেয়েছেন? কার মদতে পেয়েছেন? তার উত্তর দিন (শারদ্বত মুখোপাধ্যায়)।”

এক মন্ত্রীর সামনে আরেক দলীয় বিধায়কের উত্তেজিত কথাবার্তায় উপস্থিত অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়েন। দুই বিধায়কের মধ্যে এমন বচসার পর থেকে দল বিড়ম্বনায় পড়েছে। বিধাননগরের বিধায়কের দরবারে পীযূষের আসার কারণ নিয়ে‌ সন্দিহান শারদ্বত ‘ঘনিষ্ঠ’ বিজেপি কর্মীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, যে অভিযোগগুলি জমা পড়েছিল তা পড়ে শোনাচ্ছিলেন শারদ্বত। সেখানে হঠাৎ করে ‘সিন্ডিকেট’ থেকে টাকা নেওয়া, না-নেওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করতে থাকেন পীযূষ। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কথায়, “পীযূষবাবু নিজে থেকেই সিন্ডিকেট নিয়ে সাফাই দিতে শুরু করেন। এ তো ঠাকুরঘরে কে রে হয়ে গেল!”

মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে শারদ্বত বলেন, “আমার বিধানসভার অন্তর্গত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেখানে এসে পাশ্ববর্তী বিধানসভার বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া এসে নীচে বসে পড়েন। পরে আমি বলায় উপরে উঠে এসে বসেন। বাকি কী হয়েছে না হয়েছে, তা নিয়ে দল যদি আমার কাছে কিছু জানতে চায়, তবে দলকে জানাব।”

যদিও পীযূষের দাবি, “দমদম পার্কে আমার আদি বাড়ি, আমি ওখানকার বাসিন্দা। উনি বলতে ভুল করেছেন। উনি বলছিলেন পাশের বিধায়ক, হয়তো ভুল করেছেন। তার পর তো দেখলেন উনি কী ভাবে আমাকে ডেকে মঞ্চে বসালেন। আমি কোনও দিন কাউকে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় সন্ত্রাস চালাতে দিইনি। চেষ্টা করেছি মানুষের কাজ যেন সঠিক হয়। মানুষ যেন সঠিক বিচার পায়। কেউ যদি তা খণ্ডন করার চেষ্টা করেন, তবে আমি ছেড়ে কথা বলব না।”


Share