TMC Leader Murder

সিপিএমের কর্মীদের বিরুদ্ধে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, চার দিন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে মৃত্যু হল পটাশপুরের তৃণমূল নেতার

গত চার দিন ধরে বিজনবন্ধু কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। শেষ রক্ষা না। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধানকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল সিপিএমের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পটাশপুর
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫০

পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূলের প্রধানকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল সিপিএমের কর্মীদের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম বিজনবন্ধু বাগ। চার বারের বিধায়ক অখিল গিরির অভিযোগ, যাঁরা মারধর করেছে তাঁরা এলাকায় সিপিএম করত। ভোটের পরে জার্সি বদল করে বিজেপি হয়েছে। বিজনবন্ধু পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন। পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। গত চার দিন ধরে বিজনবন্ধু কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল। শেষ রক্ষা না। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল নেতা বিজনবন্ধু বাগকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্বাচনের পর থেকেই তিনি বাড়িছাড়া ছিলেন। ছয় থেকে সাত জন দুষ্কৃতী তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এলাকার কোথাও একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার পরে পঞ্চায়েত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ গুরুতর জখম অবস্থায় বিজনবন্ধুকে উদ্ধার করে প্রথমে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিজনবন্ধুকে কলকাতার হাসপাতালে রেফার করা হয়।

বিজনবন্ধু বাগকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক সঙ্কটজনক ছিল। শেষ রক্ষা হল না। রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। নীলরতন সরকার মেডিকেলে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তার পরে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিজনের পরিবার সূত্রের খবর, ঘটনায় পটাশপুর থানায় তাঁরা নতুন করে অভিযোগ জানাবেন।


পিটিয়ে খুনের ঘটনায় সিপিএম এবং বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে চার বারের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্য, যাঁরা বিজনবন্ধুকে মারধর করেছে, তাঁরা এই এলাকায় সিপিএম করত। নির্বাচনের পরে জার্সি বদল করে বিজেপি হয়েছে। যাঁরা মারধর করেছে, সিপিএম আমলে ওই এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটিয়েছিল। প্রবীণ নেতা অখিল গিরি ‘এখন কলকাতা’-কে বলেন, “বিজনবন্ধুকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছিল। আজকে দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তার পরে দেহ নিয়ে আসা হবে। হিন্দু ধর্ম মতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পরে দলীয় ভাবে যা সিদ্ধান্ত নেওয়া নেওয়া হবে। ঘটনায় কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে দাবি করেন রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

ঘটনার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিজনবন্ধুর পরিবার। বিজনের দাদা বিপুলকান্তি বাগ বলেন, “ঘটনায় নতুন করে আমরা অভিযোগ করব। আগে একটা জিরো এফআইআর করা হয়েছিল। ঘটনায় যাঁরা জড়িত রয়েছেন তাঁদের চিহ্নিত করে থানাকে জানানো হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারির দাবি জানাচ্ছি। তাঁদের যাতে কঠোর শাস্তি হয় তার দাবিও জানাচ্ছি।”


Share