Suvendu Adhikari

‘আমি নাস্তিক নই, হিন্দুবাড়ির ছেলে’, অষ্টমীর অঞ্জলি দিয়ে বামেদের নিশানা শুভেন্দুর, আরশোলা-ছারপোকা থেকে সাবধান থাকার বার্তা

অষ্টমীর অঞ্জলি দিয়ে নিজেকে সনাতনী হিন্দু বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। একইসঙ্গে বামেদের ও ককরোচ জনতা পার্টিকে ‘আরশোলা-ছারপোকা’ কটাক্ষ করে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩১

দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বামেদের নিশানা করে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তাও দিলেন তিনি। নিজেকে সনাতনী হিন্দু এবং হিন্দুবাড়ির ছেলে বলে উল্লেখ করে শুভেন্দুর দাবি, তিনি নাস্তিক নন, কমিউনিস্টও নন। পাশাপাশি ‘আরশোলা’ ও ‘ছারপোকা’ বলে কটাক্ষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদেরও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কাঁথির পাড়ার পুজোয় মুখ্যমন্ত্রী

অষ্টমীর সকালে কাঁথির নিজের পাড়ার ঐতিহ্যবাহী নান্দনিক ক্লাবের পুজোমণ্ডপে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দেবী দুর্গার সামনে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি পুষ্পাঞ্জলিও দেন তিনি। দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কাঁথির এই পুজো ৩৯ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। এবারের মণ্ডপসজ্জায় অখণ্ড মেদিনীপুরের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও সংগ্রামের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা, সবেতেই রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া। কলকাতার বড় বাজেটের পুজোগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৈরি এই মণ্ডপ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়ও নজর কেড়েছে।

‘আমি সনাতনী হিন্দু’

পুজো দেওয়ার পর নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “আরশোলা থেকে সাবধান থাকুন। আমি নাস্তিক নই, আমি কমিউনিস্ট নই। আমি সনাতনী হিন্দু। সনাতন ধর্মের নিয়ম-নীতি মেনেই পুজো করি।”

এরপর বামেদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর বয়স এখন ৫৬ বছর। পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকে তিনি পুজো করে আসছেন। অর্থাৎ প্রায় ৫০ বছর ধরে এই রীতি পালন করছেন তিনি। তাঁর কথায়, এটি সম্পূর্ণ আস্থার বিষয়। কমিউনিস্টরা পুষ্পাঞ্জলি দেন না, চরণামৃত খান না কিংবা কপালে টিকা লাগান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরশোলা-ছারপোকা বলে কটাক্ষ

বামেদের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পথে নামা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁদের ‘আরশোলা-ছারপোকা’ বলে উল্লেখ করে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই শক্তিগুলি গোটা ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অষ্টমীর সকালে ধর্মীয় আচার পালনের মঞ্চ থেকেই এভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।


Share